মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার ওয়াশিংটন ডিসিতে। ছবি: এএফপি
যুদ্ধ বন্ধে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতার দ্বারপ্রান্তে আছে বলে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে একাধিক মার্কিন গণমাধ্যম। হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারাও সম্ভাব্য সমঝোতার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর মধ্যেই ইরানকে ঘিরে নতুন হুমকি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বুধবার ট্রাম্পের এমন হুমকির কারণে মধ্যপ্রাচ্য সংকটে নাটকীয় পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। নিজের সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লিখেছেন, ‘ধরে নিচ্ছি ইতোমধ্যে সম্মত হওয়া শর্তগুলো ইরান মেনে নেবে। কিন্তু এটি পুরোটাই অনুমান। যদি তারা শর্ত মেনে নেয়, তাহলে এপিক ফিউরি অভিযানের ইতি ঘটবে।’
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ইরানে যে সামরিক অভিযান শুরু করে সেটির নাম ‘এপিক ফিউরি’। ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘যদি তারা চুক্তিতে রাজি না হয়, তবে আবারও বোমা হামলা শুরু হবে। এবারের হামলার মাত্রা ও তীব্রতা আগের চেয়ে অনেক বেশি ভয়াবহ হবে।’
এর আগে মার্কিন গণমাধ্যম অ্যাক্সিওস তাদের এক প্রতিবেদনে জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধ বন্ধে এক পৃষ্ঠার সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষরে দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে। এর কিছুক্ষণ পর নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, পাকিস্তানে ইরানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসার কথা ভাবাটাও এখন ‘অনেক দূরের বিষয়’।
যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে ট্রাম্পের প্রকৃত অবস্থান আসলে কী, তা বোঝা এখন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ৭৯ বছর বয়সী এই রিপাবলিকান নেতা বারবার দাবি করেছেন, বড় ধরনের সংঘাত চালিয়ে যাওয়ার জন্য তাঁর কাছে পর্যাপ্ত সময় আছে। অথচ সম্প্রতি নিজেই কংগ্রেসকে জানিয়েছেন, যুদ্ধ ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। বুধবার বেইজিংয়ে। ছবি: সিনহুয়া
সমঝোতার বিষয়টি সামনে আসার আগে মঙ্গলবার ট্রাম্প নিজেও হরমুজ প্রণালিতে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে সামরিক অভিযান স্থগিতের ঘোষণা দেন। ট্রুথ সোশ্যালে লিখেন, মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান ও অন্যান্য রাষ্ট্রের অনুরোধে তিনি আপাতত এই অভিযান স্থগিত করছেন। একইসঙ্গে উল্লেখ করেন, তেহরানের সঙ্গে একটি একটি পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত চুক্তির ব্যাপারে ‘ব্যাপক’ অগ্রগতি হয়েছে।
চুক্তির অগ্রগতির বিষয়ে এমন কথা বলার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বুধবার তিনি ইরানে বোমা হামলার হুমকি দিলেন।
ইরান কী বলছে
দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বুধবার বেইজিংয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-র সঙ্গে বৈঠক করেছেন। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তেহরানের ঘনিষ্ঠ এই মিত্র দেশে আরাঘচির এটিই প্রথম সফর।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে আরাঘচি জানান, তাঁরা দুই পক্ষ মিলে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে বর্তমানে চলমান আলোচনাগুলো পর্যালোচনা করেছেন। পরে এক্সে দেওয়া পোস্টে আরাঘচি আরও জানান, ইরান আশা করে বেইজিং যুদ্ধ-পরবর্তী নতুন আঞ্চলিক কাঠামো তৈরিতে সমর্থন দেবে। এই কাঠামোর আওতায় উন্নয়ন ও নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা হবে।
আলোচনা শেষে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ওয়াং ই অবিলম্বে শত্রুতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে তিনি উভয়পক্ষকে যত দ্রুত সম্ভব হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার অনুরোধ করেন।
আরাঘচির এই সফরের আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বেইজিংয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন, তারা যেন হরমুজের অবরোধ তুলে নিতে তেহরানের ওপর চাপ দেয়।
