বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের সাময়িক বরখাস্ত ওয়ারহাউজ ইন্সপেক্টর মহিউদ্দিনকে কেন্দ্র করে অবৈধ নিয়োগ বাণিজ্য, বদলি বাণিজ্য, অপপ্রচার, চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী। তাদের দাবি, অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, নারী-সংক্রান্ত একটি ঘটনায় সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার পরও মহিউদ্দিন বিভিন্নভাবে ফায়ার সার্ভিসের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছেন। একই সঙ্গে তিনি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও পরিচালকদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
তাদের দাবি, ফায়ার সার্ভিসে স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু থাকায় অবৈধ নিয়োগ বাণিজ্য পরিচালনা করতে না পেরে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে নিয়মিত ভিত্তিহীন সংবাদ ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। অভিযোগকারীদের মতে, এই চক্রের অন্যতম নেতৃত্বে রয়েছেন সাময়িক বরখাস্ত মহিউদ্দিন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সাবেক সরকারের সময় তিনি প্রভাবশালী স্টাফ অফিসার হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং সেই সময় বিভিন্ন নিয়োগ ও বদলি প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে প্রায় ৩,০০০ ফায়ার ফাইটার ড্রাইভার নিয়োগকে কেন্দ্র করে অবৈধ নিয়োগ বাণিজ্যের অন্যতম পরিকল্পনাকারী হিসেবে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে।
এছাড়া তার বিরুদ্ধে আরও বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তিনি বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, ব্ল্যাকমেইল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। এমনকি বর্তমান প্রশাসনকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এসব কর্মকাণ্ডের ফলে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি হচ্ছে।
এ কারণে অভিযোগকারীরা সাময়িক বরখাস্ত ওয়ারহাউজ ইন্সপেক্টর মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগসমূহের নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রমাণ সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দোষী প্রমাণিত হলে চাকরি থেকে অপসারণসহ যথাযথ বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে উল্লিখিত অভিযোগগুলোর স্বাধীন সত্যতা এই প্রতিবেদনে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে তার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।
