মতিঝিলে চাকরিচ্যুতদের অবস্থানকে কেন্দ্র করে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া—পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে। ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ঘিরে ফের উত্তেজনা ছড়িয়েছে। চাকরিচ্যুত সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও হাতাহাতির ঘটনায় দুই পক্ষের অর্ধশতাধিক আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে এ ঘটনা ঘটে। চাকরিচ্যুতদের একাংশের দাবি, তারা ব্যাংকের সামনে চাকরি পুনর্বহালের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন। অন্যদিকে গ্রাহক ফোরামের দাবি, এস আলমের সময়ে যাচাই-বাছাই ছাড়া চট্টগ্রামের পটিয়া থেকে নিয়োগ পাওয়া কথিত ‘অবৈধ নিয়োগপ্রাপ্তরা’ ব্যাংকের বিরুদ্ধে নতুন করে ষড়যন্ত্রের উদ্দেশ্যে অবস্থান নিয়েছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে পটিয়া অঞ্চল থেকে আসা কয়েকজন সাবেক কর্মী চাকরি পুনর্বহালের দাবিতে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। কিছুক্ষণ পর সেখানে সচেতন গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা অবস্থান নিলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে কথা-কাটাকাটি থেকে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতি শুরু হয়। পরে তা সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় রূপ নেয়।
এতে দুই পক্ষের অর্ধশতাধিক সদস্য আহত হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেন।
ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের সভাপতি নুর উন নবী মানিক সাংবাদিকদের বলেন, ‘অবৈধ নিয়োগপ্রাপ্তদের সঙ্গে ব্যাংকের কোনো সম্পর্ক নেই। ব্যাংকটির বিরুদ্ধে নতুন করে ষড়যন্ত্র করতে তারা অবস্থান নিয়েছেন। আজ যখন শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছি, তখন পুলিশের ছত্রছায়ায় আমাদের সদস্যদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।
ইসলামী ব্যাংকের সামনে দুই পক্ষের উত্তেজনা
তিনি বলেন, ‘পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আরও ২৫ থেকে ৩০ জন আহত হয়েছেন। তারা চিকিৎসা নিয়ে বাসায় ফিরে গেছেন। যারা পরিকল্পিতভাবে হামলা করেছে, তাদের খুঁজে বের করতে হবে। একই সঙ্গে তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।

অন্যদিকে, চাকরিচ্যুতদের পক্ষের শহিদুল ইসলাম নামের এক সাবেক কর্মী দাবি করেন, তাদের অন্তত ২৫ জনের ওপর হামলা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা দ্বিতীয় দিনের মতো ব্যাংকের সামনে অবস্থান কর্মসূচি নিয়ে দাঁড়িয়েছি। আজ উপস্থিত হওয়ার ২০ মিনিটের মধ্যে গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা আমাদের ওপর হামলা চালায়। পুলিশ প্রোটেকশন দিয়ে আমাদের সরিয়ে দিয়েছে। ২০ থেকে ২৫ জন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
পুলিশের ভাষ্য
পুলিশ জানায়, সোমবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে দুই পক্ষ অবস্থান নেয়। প্রথমে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতিতে গড়ায়। পরে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মহসীন আল মুরাদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘সকালের ঘটনা আমি জানি না। বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে চাকরিচ্যুতরা অবস্থান নিয়েছেন। যেহেতু এটি কেপিআইভুক্ত প্রতিষ্ঠান, তাই তাদের এখান থেকে চলে যেতে বলেছি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিশৃঙ্খলা এড়াতে প্রস্তুত রয়েছে।
মতিঝিল বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার সাকিবুল আলম ভূইয়া সমকালকে বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্ন ঘটালে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইসলামী ব্যাংক ঘিরে চাকরিচ্যুত সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সচেতন গ্রাহক ফোরামের পাল্টাপাল্টি অবস্থানকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেওয়ায় ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয় ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
