মঙ্গলবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩১শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ময়মনসিংহ মেডিকেলে অগ্নিকাণ্ড: আতঙ্কে সিঁড়িতে হুড়োহুড়ি, প্রাণ গেল ছয়জনের, অন্তত ৩০ জন আহত, বাড়তে পারে মৃতের সংখ্যা

মামুনুর রশীদ মামুন
সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (মমেক) ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আগুনের চেয়ে আতঙ্ক ও হুড়োহুড়িই যেন হয়ে উঠল আরও ভয়ংকর। জীবন বাঁচাতে সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় রোগী ও স্বজনদের ভিড়ে পদদলিত ও আহত হয়ে শিশুসহ ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন এশিয়া পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এর আগে, সোমবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে হাসপাতালের নতুন ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুনের সঙ্গে সঙ্গে পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে তীব্র ধোঁয়া। আতঙ্কিত রোগী ও স্বজনরা দ্রুত নিচে নামার চেষ্টা করলে শুরু হয় হুড়োহুড়ি।

মৃতদের মধ্যে পাঁচজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন—ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার বালিখা গ্রামের কুলসুমা, ফুলবাড়িয়া উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া গ্রামের শাহজাহান, একই উপজেলার রমজান, জাহানারা এবং নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার বসী গ্রামের হাজেরা বেগম। নিহত অপরজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

হাসপাতালের নতুন ভবনের আটতলায় লিফট কন্ট্রোল রুম থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ওই রুম অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়ার পর আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি চারদিকে প্রচণ্ড ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন ও ধোঁয়া সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে।

তবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর গণমাধ্যমের কাছে দেওয়া বক্তব্যে ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী এবং ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মো. জাকিউল ইসলাম জানিয়েছিলেন, অগ্নিকাণ্ডে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তারা আরও জানান, আগুন লাগার ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করা হবে।

এর কিছুক্ষণ পরই পরিস্থিতির ভয়াবহতার চিত্র সামনে আসে। সরেজমিনে হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, শত শত রোগী ও স্বজন হাসপাতাল চত্বরে অবস্থান করছেন। তাদের মধ্যে অনেক গুরুতর অসুস্থ রোগীও রয়েছেন। কারও হাত ভাঙা, কারও মাথায় ব্যান্ডেজ। আতঙ্কে অনেক রোগী ও স্বজনকে কান্নাকাটি করতে দেখা যায়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, হাসপাতালে থাকা রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে অগ্নিকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। জীবন বাঁচাতে তারা সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামার চেষ্টা করেন। কিন্তু মাত্র একটি সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামার সুযোগ থাকায় সেখানে ব্যাপক ভিড় তৈরি হয়।

তিনি বলেন, হুড়োহুড়ির মধ্যে অনেকে আহত হন। এ ঘটনায় শিশুসহ ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।

আব্দুল্লাহ আল মামুন আরও বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমরা ছয়জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত কীভাবে এবং এর পেছনে কোনো অবহেলা বা ত্রুটি ছিল কি না—তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।