গত রোববার কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বসতবাড়ির জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষে হাসুয়ার কোপে ইন্তাদুল বাদাল (৫৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ২০ মিনিটের দিকে উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের শেহালা বাদালপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ইন্তাদুল বাদাল শেহালা বাদালপাড়া গ্রামের মৃত ফুলচাঁদ বাদালের ছেলে। এ ঘটনায় আহতরা হলেন—একই গ্রামের মোঃ বাবু (৪৫), পিতা আলেক বাদাল এবং নিহত ইন্তাদুলের ছেলে তপন বাদাল। তাদের মধ্যে বাবুকে গুরুতর আহত অবস্থায় কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে এবং তপনকে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শেহালা বাদালপাড়া গ্রামের লাবলু বাদাল, পিতা মৃত লালচাঁদ বাদালের বসতবাড়ির পেছনে ইটের হিয়ারিং রাস্তার ওপর বসতবাড়ির জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ইন্তাদুল বাদালের সঙ্গে তার আপন ভাই মোঃ বজলু বাদাল (৬০) ও বজলুর ছেলে হানিফ বাদালের (৩২) কথা কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।
একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বজলু বাদাল তার হাতে থাকা হাসুয়া দিয়ে ইন্তাদুল বাদালের বাম গলা ও বাম হাতে কোপ দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে ইন্তাদুল গুরুতর রক্তাক্ত জখম হন। এ সময় তাকে ঠেকাতে এগিয়ে গেলে তার চাচাতো ভাইয়ের ছেলে মোঃ বাবু বাদালের পেটে হাসুয়ার কোপ লাগে। এতে বাবুও গুরুতর আহত হন।
অন্যদিকে, সংঘর্ষের সময় নিহত ইন্তাদুল বাদালের ছেলে তপন বাদালের পিঠে হানিফ বাদাল হাসুয়া দিয়ে কোপ দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে তপনও গুরুতর আহত হন।
ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। তবে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে ইন্তাদুল বাদাল ঘটনাস্থলেই মারা যান বলে জানা গেছে।
খবর পেয়ে দৌলতপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। পুলিশ নিহতের মরদেহ এবং ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠা বজলু বাদাল ও তার স্ত্রীকে পুলিশ হেফাজতে নেয় বলে জানা গেছে।
জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এমন রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে একজনের মৃত্যু ও দুইজন গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের বিষয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
