ইথান আহমেদ প্রেম
কুমিল্লা নগরীতে মাদকবিরোধী মানববন্ধনে দুর্বৃত্তদের হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। গুলিবিদ্ধ স্কুলছাত্র ইথান আহমেদ প্রেম (১২)-এর বাবা ইউনুছ মিয়া বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সাব্বির ও অপুসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ছয়জনকে আসামি করে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন।
শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার। তিনি জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে শ্রাবণ নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ঢামেকে সংকটাপন্ন প্রেম, এখনো বের করা যায়নি গুলি
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গুলিবিদ্ধ স্কুলছাত্র প্রেমের শরীর থেকে এখনো গুলি বের করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন তার বাবা ইউনুছ মিয়া।
তিনি জানান, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানের কারণে গুলিটি বের করতে না পারায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাকে ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়। অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হলেও অস্ত্রোপচার করা হয়নি। গুলির ক্ষতস্থান থেকে এখনও রক্তক্ষরণ হচ্ছে এবং তাকে রক্ত দেওয়া হচ্ছে।
ইউনুছ মিয়া বলেন, বড় সার্জন এলে অপারেশন করে গুলি বের করা হবে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। তবে ঠিক কখন অপারেশন হবে, তা এখনও জানানো হয়নি।
প্রেমের মা সোনিয়া আক্তার আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, আমার একমাত্র ছেলেটা টিফিনের বিরতিতে বাসায় আসার পথে গুলিবিদ্ধ হয়েছে। তাকে ছাড়া আমি বাঁচতে পারব না। মাঝেমধ্যে সে চোখ খুলছে, কিন্তু ছোট্ট শরীর থেকে অনেক রক্ত বের হচ্ছে। ও খুব কষ্ট পাচ্ছে।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. শাহজাহান জানান, গুলিটি প্রেমের ফুসফুস পর্যন্ত আঘাত করেছে। ঝুঁকি এড়াতে তাকে ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। সেখানে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে বুলেটটি বের করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এমপির প্রতিক্রিয়া
কুমিল্লা-৬ (সদর ও সদর দক্ষিণ) আসনের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, বৃহস্পতিবার রাতেই তিনি গুলিবিদ্ধ স্কুলছাত্রের পরিবারকে দেখতে গিয়েছেন।
তিনি বলেন, একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ ঘটনার দায় এড়াতে পারি না। জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে রাতেই সংশ্লিষ্টদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেছি।
যেভাবে ঘটেছিল হামলা
গত বৃহস্পতিবার দুপুরে কুমিল্লা নগরীর কাঁটাবিল এলাকায় মাদকবিরোধী মানববন্ধনের আয়োজন করে ‘নাগরিক কমিটি’। মানববন্ধন চলাকালে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একদল দুর্বৃত্ত হামলা চালায় এবং গুলিবর্ষণ করে। এতে স্কুলছাত্র প্রেমসহ অন্তত সাতজন আহত হন।
আহতদের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় প্রেমকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে আগের রাতেই অপু গ্রুপ ও সাব্বির গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে সংঘর্ষ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এর প্রতিবাদে স্থানীয় বাসিন্দারা কাঁটাবিল রফিক উদ্দিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় ও কাঁটাবিল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে মানববন্ধনের আয়োজন করেন। মানববন্ধন চলাকালে অস্ত্রধারীরা হামলা চালিয়ে নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করলে পথচারী ও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ইথান আহমেদ প্রেম গুলিবিদ্ধসহ অন্তত সাতজন আহত হন।
স্কুলের শিক্ষকদের ভাষ্য, টিফিনের বিরতিতে প্রেম বাসায় ফেরার পথে এ হামলার শিকার হয়। তার বাবা ইউনুছ মিয়া নগরীর সিটি পার্কের একটি রাইডে কর্মরত।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার করা হয়েছে এবং মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
