শনিবার, ২৭শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জিসিসির কর্মীদের চাকরি স্থায়ীকরণের প্রলোভন: অর্থ আদায়ের অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে আমজাদ হোসেন, কোটি টাকার প্রশ্নে তোলপাড়

গাজীপুর প্রতিনিধি
জুন ২৬, ২০২৬ ৪:১১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের (জিসিসি) মাস্টার রোল, চুক্তিভিত্তিক ও দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারীদের চাকরি স্থায়ী করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন জিসিসির যান্ত্রিক বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (চুক্তিভিত্তিক) মো. আমজাদ হোসেন।

কর্মচারীদের একটি অংশের দাবি, চাকরি স্থায়ীকরণের নামে ইতোমধ্যে কয়েক দফায় লাখ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে এবং এ প্রক্রিয়া এখনও অব্যাহত রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, “চুক্তিভিত্তিক ও মাস্টার রোল কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ পরিষদ” নামে একটি সংগঠনের ব্যানারে কর্মচারীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, সংগঠনটির নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তিরা চাকরি স্থায়ীকরণ, নিয়োগ বিধিমালা অনুমোদন, গেজেট প্রকাশ এবং আদালতে দায়ের করা মামলার ব্যয় নির্বাহের কথা বলে কর্মচারীদের কাছ থেকে অর্থ নিচ্ছেন।

জানা গেছে, ২০২৪ সালে গঠিত ওই সংগঠনের সভাপতি নির্বাচিত হন মো. আমজাদ হোসেন। এরপর বিভিন্ন জোন ও বিভাগের মাস্টার রোল এবং চুক্তিভিত্তিক কর্মচারীদের মধ্যে চাকরি স্থায়ীকরণ নিয়ে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়।

চলতি বছরের ১০ মার্চ এ বিষয়ে রিট পিটিশন নম্বর-১৩৭৩/২০২৬ দায়ের করা হয়েছে বলে কর্মচারীদের জানানো হয়। মামলার ব্যয় এবং বিভিন্ন পর্যায়ে তদবিরের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, নগর ভবন ও আটটি জোনের কয়েকজন কর্মচারীও অর্থ সংগ্রহ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত রয়েছেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অর্থ দিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করলে বদলি কিংবা প্রশাসনিক হয়রানির আশঙ্কাও দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন কর্মচারী। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা এই প্রতিবেদকের পক্ষে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে বর্তমানে প্রায় ১,২২৫ জনের বেশি মাস্টার রোল, চুক্তিভিত্তিক ও দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, যদি প্রত্যেক কর্মচারীর কাছ থেকে ধারাবাহিকভাবে অর্থ সংগ্রহ করা হয়ে থাকে, তাহলে মোট অর্থের পরিমাণ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

গাজীপুর নাগরিক কমিটির সভাপতি জুলীয়াস চৌধুরী বলেন, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এবং সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী রাজস্ব খাতের স্থায়ী পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্ধারিত যোগ্যতা, উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তি এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে মেধাভিত্তিক নির্বাচন বাধ্যতামূলক। মাস্টার রোল বা দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মীদের সরাসরি স্থায়ীকরণের কোনো সাধারণ আইনি বিধান বর্তমানে নেই।

তিনি আরও বলেন, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিভিন্ন রায়ে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, আইন বা বিধিতে সুনির্দিষ্ট সুযোগ না থাকলে প্রকল্প, মাস্টার রোল বা চুক্তিভিত্তিক কর্মচারীদের সরাসরি রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত বা স্থায়ীকরণ করা যাবে না। ফলে চাকরি স্থায়ী করার নিশ্চয়তা দিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ সত্য হলে তা প্রতারণার শামিল হতে পারে।

আইনজ্ঞদের ভাষ্য, শুধুমাত্র দীর্ঘদিন কর্মরত থাকার কারণে কোনো অস্থায়ী বা চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী স্থায়ী চাকরির আইনগত অধিকার অর্জন করেন না। বিধিবদ্ধ আইন বা অনুমোদিত নিয়োগ বিধিমালায় সুযোগ না থাকলে সরাসরি নিয়মিতকরণ বা স্থায়ীকরণের দাবি গ্রহণযোগ্য নয়।

এদিকে সম্প্রতি মো. আমজাদ হোসেনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমে অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং আর্থিক অসঙ্গতি নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। নতুন করে চাকরি স্থায়ীকরণের নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ ওঠায় কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ আরও বেড়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মো. আমজাদ হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

তার ফোন রিসিভ না করার বিষয়ে বিভিন্ন মহলে নানা আলোচনা থাকলেও, শুধুমাত্র ফোন না ধরা থেকে দায় এড়িয়ে যাওয়ার কৌশল বা দোষ স্বীকারের সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া গেলে সেটিও প্রকাশ করা হবে।

এদিকে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, সংগৃহীত অর্থের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
সারাবাংলা সর্বশেষ