চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ পরিবারের, চিকিৎসকের দাবি—হঠাৎ শকে চলে যান। প্রতীকী ছবি
টাঙ্গাইলের নাগরপুরে ভীমরুলের কামড়ে চান মিয়া নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে নিজ বাড়ির তালগাছে উঠে কাজ করার সময় ভীমরুলের আক্রমণের শিকার হন তিনি। পরে নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত চান মিয়া উপজেলার মামুদনগর ইউনিয়নের শ্রীবড়টিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে চান মিয়া নিজ বাড়ির একটি তালগাছে উঠে গাছ পরিষ্কার করছিলেন। এ সময় গাছে থাকা ভীমরুলের চাক থেকে বেশ কিছু ভীমরুল বের হয়ে তাঁকে আক্রমণ করে। একাধিক স্থানে হুল ফোটালে গুরুতর আহত অবস্থায় দ্রুত গাছ থেকে নেমে আসেন তিনি।
পরে তাঁর শারীরিক অবস্থা গুরুতর দেখে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাঁকে নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে ভর্তি করার পর তাঁর চিকিৎসা শুরু হয়। তবে বিকেল ৫টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালেই তাঁর মৃত্যু হয়।
এদিকে চান মিয়ার পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন। তাঁদের দাবি, হাসপাতালে ভর্তি করার পর তাঁকে সঠিকভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। চিকিৎসায় গাফিলতির কারণে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে।
পরিবারের সদস্যরা বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যদি আগে জানাত যে এখানে তাঁর চিকিৎসা সম্ভব নয়, তাহলে তাঁকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র নিয়ে যাওয়া যেত। কিন্তু তা না করায় চিকিৎসায় অবহেলার কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে তাঁরা মনে করেন। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
তবে পরিবারের অভিযোগের বিষয়ে নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. রিফাত মাহবুব বলেন, চান মিয়া বিকেল ৫টার দিকে হঠাৎ করে শকে চলে যান। তাঁকে বাঁচাতে চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে বহু চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
চান মিয়ার মৃত্যুতে তাঁর পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
