বুধবার, ১৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নেপালগামী বোর্ডিং পাস, ইতালিগামী ফ্লাইট, জাল শেনজেন ভিসা কাণ্ডে বিমানের গ্রাউন্ড অফিসার গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক
জুন ১৬, ২০২৬ ৪:৫৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

৩০ লাখ টাকার চুক্তিতে ইউরোপ যাত্রার ফাঁদ, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন প্রশ্ন। গ্রেপ্তারকৃত গ্রাউন্ড অফিসার মো. আখলাসুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

শেনজেন ভিসায় তিনজনকে ইতালি পাঠানোর চেষ্টার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। এ ঘটনায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের গ্রাউন্ড অফিসার মো. আখলাসুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মঙ্গলবার সকালে জামালপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার বদরুল আলম মোল্লা জানান, গত ২৬ মে তিন ব্যক্তি প্রথমে নেপালগামী ফ্লাইটের বোর্ডিং পাস ব্যবহার করে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করেন। এরপর স্টাফ গেট দিয়ে বের হয়ে একটি গাড়িতে বসে তারা ইতালিগামী বোর্ডিং পাস, টিকিট এবং জাল শেনজেন ভিসা সংগ্রহ করেন।

পরে তারা পুনরায় ইমিগ্রেশন এলাকায় ফিরে ওয়াশরুমে নিজেদের পাসপোর্টে জাল ভিসা সংযুক্ত করেন। অভিযোগ রয়েছে, এরপর আইএনএস গেটে দায়িত্বরত গ্রাউন্ড অফিসার মো. আখলাসুর রহমান তাদের ইতালিগামী ফ্লাইটে উঠতে সহায়তা করেন।

সিআইডি জানায়, ইতালির রোম বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর মোস্তাফিজুর রহমান অনিক ও অক্ষয় চন্দ্র দাস জাল ভিসাসহ ধরা পড়েন এবং তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়। তবে তৃতীয় ব্যক্তি ইতালিতে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছেন, যার পরিচয় নিরাপত্তাজনিত কারণে প্রকাশ করা হয়নি।

জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তি জানিয়েছেন, ৩০ লাখ টাকার চুক্তিতে একটি চক্রের মাধ্যমে তারা ইতালি যাওয়ার চেষ্টা করেন এবং আগাম ২০ লাখ টাকা পরিশোধ করেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যেহেতু তাদের ইমিগ্রেশন নেপালগামী বোর্ডিং পাসে সম্পন্ন হয়েছিল, তাই শুধুমাত্র আইএনএস গেট দিয়েই বের হওয়ার সুযোগ ছিল। ওই গেটে থাকা গ্রাউন্ড অফিসারের সহযোগিতায় তারা গেট পার হয়ে ইতালিগামী ফ্লাইটে উঠতে সক্ষম হন।

এ ঘটনায় গত ৩০ মে বিমানবন্দর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। সিআইডি জানিয়েছে, এ ঘটনার সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত থাকতে পারে। তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

প্রশ্নের মুখে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা

এই ঘটনায় শুধু জাল ভিসা চক্র নয়, বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, স্টাফ গেট ব্যবস্থাপনা এবং অভ্যন্তরীণ যোগসাজশের বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। একটি সংঘবদ্ধ চক্র কীভাবে ইমিগ্রেশন সম্পন্নের পর যাত্রাপথ বদলে ইউরোপগামী ফ্লাইটে ওঠার সুযোগ পেল, তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।