মঙ্গলবার, ১৪ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা বৈশাখ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

প্রিন্সেস রোজির রূপে বিশ্বমঞ্চে ভাবনা—মস্কো উৎসবে প্রেম, সংগ্রাম আর শিল্পের দীপ্তি

বিনোদন ডেস্ক
এপ্রিল ১৪, ২০২৬ ১২:৪৮ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

আশনা হাবিব ভাবনা। ছবি: ফেসবুক

বাংলার মাটির গন্ধমাখা যাত্রাপালার মঞ্চ—যেখানে একসময় গল্প, সুর আর অভিনয়ের জাদুতে দর্শক হারিয়ে যেত অন্য এক জগতে—সেই মঞ্চই আজ বদলে যাচ্ছে সময়ের স্রোতে। ঐতিহ্য আর আধুনিকতার এই দ্বন্দ্বের গল্প নিয়েই নির্মিত হয়েছে চলচ্চিত্র ‘কিং ইন দ্য ল্যান্ড অব দ্য প্রিন্সেস’। আর এই গল্পের হৃদয়ে আছেন এক রহস্যময়ী চরিত্র—‘প্রিন্সেস রোজি’ যার রূপে পর্দা আলোকিত করেছেন আশনা হাবিব ভাবনা।

এই চলচ্চিত্রটি এবার জায়গা করে নিয়েছে বিশ্ব চলচ্চিত্রের মর্যাদাপূর্ণ আসর মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব-এর ৪৮তম আসরে, ‘আর্টকোর’ বিভাগে। ফলে দেশের সীমানা পেরিয়ে ভাবনার অভিনয় এখন ছুঁয়ে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক দর্শকের হৃদয়।

আশনা হাবিব ভাবনা। ছবি: ফেসবুক

চলচ্চিত্রটির নির্মাতা আসিফ ইসলাম জানান, এই অর্জন শুধু তাঁর একার নয়—এটি পুরো টিমের ভালোবাসা আর পরিশ্রমের ফসল। তাঁর কণ্ঠে ছিল গর্ব আর আবেগের মিশেল, যেন দীর্ঘ পথচলার এক স্বপ্নপূরণ।

প্রিন্সেস রোজি—শুধু একটি চরিত্র নয়, এটি এক যাত্রা। এই চরিত্রে প্রাণ দিতে গিয়ে ভাবনাকে পেরোতে হয়েছে কঠিন প্রস্তুতির পথ। প্রায় ৯ কেজি ওজন বাড়ানো থেকে শুরু করে যাত্রাশিল্পীদের মতো নাচ ও অভিনয়ের ভঙ্গি আয়ত্ত করা—সবকিছুই তিনি করেছেন নিখুঁতভাবে। তাঁর ভাষায়, এই চরিত্র তাঁর ভেতরে শারীরিক ও মানসিক—দুই দিকেই এক গভীর পরিবর্তন এনে দিয়েছে। যেন চরিত্র আর বাস্তবের সীমানা কোথাও মিলেমিশে গেছে।

কিং ইন দ্য ল্যান্ড অব দ্য প্রিন্সেস’ -এর অন্যতম পোস্টার

মস্কোর মঞ্চে নিজের কাজ প্রদর্শনের সুযোগকে ভাবনা দেখছেন এক অনন্য সম্মান হিসেবে। তাঁর স্বপ্ন—নিজের শিল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরা। তাঁর অনুভূতিতে ছিল একধরনের কোমল উত্তেজনা—যেন প্রিয় কোনো গল্প প্রথমবার শোনাতে যাচ্ছেন বিশ্বের কাছে।

চলচ্চিত্রটির গল্পে উঠে এসেছে যাত্রাপালার ক্রমাবনতি আর দর্শকের রুচির পরিবর্তনের বাস্তবতা। এখানে ‘প্রিন্সেস’ নামের এক নৃত্যশিল্পী হয়ে ওঠেন মঞ্চের কেন্দ্রবিন্দু—যার জনপ্রিয়তা, আকর্ষণ আর দর্শকের চাহিদা মিলিয়ে তৈরি হয় এক নতুন বাস্তবতা। ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিকতার এই টানাপোড়েনই সিনেমার মূল সুর।

পরিচালক আসিফ ইসলামের জন্য এই গল্প ব্যক্তিগতও বটে। শৈশব থেকে যাত্রার সঙ্গে তাঁর গভীর সম্পর্কই তাঁকে এই চলচ্চিত্র নির্মাণে অনুপ্রাণিত করেছে। ফরিদপুরের গোবিন্দপুরে বাস্তব যাত্রার সেট তৈরি করে সম্পন্ন হয়েছে সিনেমাটির শুটিং, যেখানে ভাবনা ছাড়া অধিকাংশ শিল্পীই ছিলেন প্রকৃত যাত্রাশিল্পী—যা চলচ্চিত্রটিকে দিয়েছে এক অনন্য বাস্তবতার ছোঁয়া।

উল্লেখ্য, এর আগে আসিফ ইসলামের চলচ্চিত্র ‘নির্বাণ’ একই উৎসবে স্পেশাল জুরি অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছিল। আর এবার ‘প্রিন্সেস রোজি’কে সঙ্গে নিয়ে তিনি আবারও ফিরছেন সেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে—নতুন গল্প, নতুন স্বপ্ন আর নতুন ভালোবাসা নিয়ে।

শিল্প, ভালোবাসা আর সংগ্রামের এই গল্পে—প্রিন্সেস রোজি শুধু একটি চরিত্র নয়, বরং সময়ের আয়নায় প্রতিফলিত এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।