বদলি-বাণিজ্য, পদায়ন ও নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ; ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিতে অর্থ লেনদেনেরও দাবি, তদন্তের নির্দেশ দিয়ে প্রশ্নের মুখে প্রধান প্রকৌশলীর ভূমিকা। দুদকে অভিযোগের প্রস্তুতি। ফাইল ছবি
সিন্ডিকেট গঠন, বদলি-বাণিজ্য, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদায়ন ও নিয়োগে অনিয়ম, ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিতে অর্থ লেনদেন এবং অধিদপ্তরের বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়াসহ নানা অভিযোগ উঠেছে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) প্রধান প্রকৌশলী মো. তারেক আনোয়ার জাহেদীর বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের কিছু বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, আবার কিছু এসেছে অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে। অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে সব তথ্যের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
মো. তারেক আনোয়ার জাহেদী বর্তমানে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই অধিদপ্তরের বদলি, পদায়ন, নিয়োগ ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ঘিরে নানা প্রশ্ন সামনে এসেছে।
বদলি-পদায়ন ঘিরে ‘সিন্ডিকেট’
২০২৫ সালের ১৬ অক্টোবর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের একটি বদলি আদেশে কয়েকজন নির্বাহী প্রকৌশলীকে বদলি এবং কয়েকজনকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হলেও আদেশ বাস্তবায়ন নিয়ে জটিলতার অভিযোগ ওঠে। ওই সময় তারেক আনোয়ার জাহেদীকে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে পদোন্নতি দিয়ে প্রধান প্রকৌশলীর রুটিন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, বদলি ও পদায়নকে ঘিরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়। এমনকি ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের আগেও এই চক্র বদলি-বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করত বলে অভিযোগ রয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে তারেক আনোয়ার জাহেদীর বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি হলো বদলি-বাণিজ্য। অভিযোগকারীদের দাবি, পছন্দের পদে বসানোর কথা বলে কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা থেকে শুরু করে এক কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থ নেওয়ার একটি ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল।
অভিযোগ রয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের সুযোগ নিয়ে দ্রুতগতিতে বড় অঙ্কের বদলি-বাণিজ্য করা হয়েছে। অধিদপ্তরের একাধিক প্রকৌশলীর দাবি, উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের তালিকা, পূর্ববর্তী ও পরবর্তী পদায়ন, তাঁদের আবেদন, আদেশের সময় এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেন অনুসন্ধান করা হলে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা সম্ভব।
গুরুত্বপূর্ণ পদায়ন ঘিরে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ
অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের অভিযোগ, উদ্দেশ্যমূলক বদলি ও পদায়নের কারণে কর্মকর্তারা পৃথক বলয়ে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়নকে কেন্দ্র করে প্রভাবশালী কর্মকর্তা ও মধ্যস্বত্বভোগীদের একটি নেটওয়ার্ক কাজ করছে বলেও তাঁদের দাবি।
২০২৫ সালের নভেম্বরেও বদলি নিয়ে একই ধরনের প্রশ্ন প্রকাশ্যে আসে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বদলি আদেশ বাস্তবায়নে ইইডির ভেতরে বাধা তৈরির অভিযোগ ওঠে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো তখনও একটি বদলি-সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকার দাবি করেছিল। ওই সময় তারেক আনোয়ার জাহেদীর সঙ্গে ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করা হলেও তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।
নিচের সারির কর্মকর্তাদের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণের অভিযোগ
তারেক আনোয়ার জাহেদীর বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে, অধিদপ্তরের নিচের সারির কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর মাধ্যমে পরোক্ষভাবে অর্থ গ্রহণের একটি ব্যবস্থা চালু রয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, সরাসরি অর্থ গ্রহণের পরিবর্তে অধস্তন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যবহার করে অর্থ আদায় করা হয়।
প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তরে কর্মরত জসিম নামের এক কর্মচারীকে ঘিরেও অভিযোগ রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে নামে-বেনামে বিপুল অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের কথা বলা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বিষয়টি প্রধান প্রকৌশলীর নজরে আসার পরও তাঁর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকি এ ক্ষেত্রে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই করা যায়নি।
সহকারী প্রকৌশলী নিয়োগেও প্রশ্ন
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে সহকারী প্রকৌশলী নিয়োগ নিয়েও নানা প্রশ্ন রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে নিয়োগে আর্থিক লেনদেন ও অনিয়মের অভিযোগ এসেছে। কয়েকজন সহকারী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পাশাপাশি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কারা কীভাবে প্রভাব বিস্তার করেছে, তা নিয়েও প্রশ্ন সামনে আসে।
চার বছরেও শেষ হয়নি নয় মাসের কাজ!
নির্মাণকাজের মান ও সময় নিয়েও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, বিভিন্ন স্কুল-কলেজের ভবন নির্মাণে যেখানে নয় মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা, সেখানে কোনো কোনো প্রকল্প চার বছরেও শেষ হয়নি। অথচ বরাদ্দকৃত অর্থের বড় অংশ পরিশোধ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
কোথাও কোথাও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। এসব অনিয়মের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ইইডিকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের অভিযোগ, ওই চিঠির জবাবেও প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া হয়নি।
অধিদপ্তরের অতীতের নিয়োগ ও দুর্নীতির বিভিন্ন অভিযোগের সঙ্গে জড়িত একটি সিন্ডিকেট এখনও সক্রিয় রয়েছে—এমন অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। ঠিকাদার ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তাধীন থাকার কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে।
অনিয়মের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ—ভিন্ন চিত্রও আছে
তবে তারেক আনোয়ার জাহেদীর দায়িত্বকালে অধিদপ্তরের অনিয়ম নিয়ে তাঁর ভূমিকার একটি ভিন্ন চিত্রও সাম্প্রতিক কিছু নথিতে পাওয়া যায়।
২০২৬ সালের আগস্টে ইইডির সহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান মনির বিরুদ্ধে ঠিকাদারের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। লিখিতভাবে অভিযোগটি প্রধান প্রকৌশলীর কাছে দেওয়া হলে তারেক আনোয়ার জাহেদী তদন্তের নির্দেশ দেন এবং সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলেন।
ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তাঁর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ রয়েছে—অধিদপ্তরের অনিয়মে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া—তার বিপরীতে অন্তত একটি সাম্প্রতিক ঘটনায় তাঁর স্বাক্ষরিত তদন্ত-নির্দেশের নথি পাওয়া যাচ্ছে।
পাঁচ লাখ টাকার কথোপকথন, তদন্ত কমিটিতে প্রধান প্রকৌশলী
আরও একটি ঘটনায় তাঁর ভূমিকা সরাসরি নথিভুক্ত হয়েছে।
২০২৬ সালের আগস্টে এক প্রতিবেদনে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রো সার্কেলের তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হাসান শওকতের দপ্তরে অর্থ লেনদেনের একটি ভিডিও প্রকাশিত হয়। ভিডিওতে টেবিলের ওপর টাকা রাখা এবং একজনকে ‘স্যারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা রেখে যান’ বলতে শোনা যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
হাসান শওকত অর্থগুলো ঠিকাদারদের বলে দাবি করেন এবং নিজের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করেন। একই প্রতিবেদনে তাঁর বিরুদ্ধে আরও কিছু অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়।
প্রতিবেদন প্রকাশের পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির সভাপতি করা হয় অতিরিক্ত সচিব ড. সরদার মো. কেরামত আলীকে। সদস্য হিসেবে রাখা হয় ইইডির প্রধান প্রকৌশলী মো. তারেক আনোয়ার জাহেদী এবং উপসচিব এ এস এম শাহরিয়ার জাহানকে।
অর্থাৎ যে অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীকে ঘিরেই নানা অভিযোগ উঠেছে, সেই তিনিই আবার অধিদপ্তরের একজন প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ওঠা অর্থ লেনদেনের অভিযোগ তদন্ত কমিটির সদস্য হয়েছেন—এ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।
হাসান শওকতের দপ্তরের অর্থ লেনদেনের ঘটনা নিয়ে তারেক আনোয়ার জাহেদী বলেন, ভিডিওটি তখনও তাঁর নজরে আসেনি। তবে এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
দরপত্র বাতিল, পুনঃদরপত্র ও ঘুষের অভিযোগ
২০২৬ সালের আগস্টে আরেক ঘটনায় ইইডির সহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান মনির বিরুদ্ধে বাড্ডার রহিমুল্লাহ মোল্লা মাদরাসার উন্নয়নকাজের দরপত্রে দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
নথি অনুযায়ী, প্রথম দরপত্রে ক্লাস ওয়ান ট্রেডার্স ২ কোটি ২ লাখ ৮ হাজার ৬১ টাকায় সর্বনিম্ন দরদাতা হয়ে কাজটি পায়। পরে দরপত্র বাতিল করে পুনঃদরপত্র আহ্বান করা হয় এবং তালুকদার এন্টারপ্রাইজকে কাজ দেওয়া হয়।
অভিযোগকারী ঠিকাদারের দাবি, তাঁদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হলেও কাজটি দেওয়া হয়নি এবং অর্থও ফেরত দেওয়া হয়নি। তবে মনিরুজ্জামান অভিযোগ অস্বীকার করেন। এ ঘটনায়ও তারেক আনোয়ার জাহেদী তদন্তের নির্দেশ দেন।
তদন্ত হচ্ছে, নাকি অভিযোগ আটকে থাকছে তদন্তেই?
পরপর এসব ঘটনায় এখন একটি প্রশ্নই সামনে এসেছে—অধিদপ্তরের প্রধান হিসেবে তারেক আনোয়ার জাহেদী অনিয়মের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছেন, নাকি তাঁর অধীনস্থদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো তদন্তের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে?
একদিকে তাঁর বিরুদ্ধে বদলি-বাণিজ্য, পদায়ন, নিয়োগ ও অর্থ লেনদেনের মতো গুরুতর অভিযোগ; অন্যদিকে অধীনস্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগে তদন্তের নির্দেশ—এই দুই বিপরীত চিত্রই তাঁর ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
রাজনৈতিক যোগাযোগ ও সম্পদের অভিযোগ
তারেক আনোয়ার জাহেদীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক যোগাযোগ ব্যবহার করে পদে বহাল থাকার চেষ্টা করার অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নিজের পদ ধরে রাখতে তিনি সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও তদবির করেছেন। তবে এ দাবির স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
তাঁর নিজ এলাকার কয়েকজন ব্যক্তির বক্তব্যের বরাত দিয়ে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তাঁর পরিবার রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ছিল এবং ওই সময়ে তিনি বিপুল সম্পদ গড়ে তুলেছেন। তাঁর নামে-বেনামে সম্পদ এবং বিদেশে সম্পদ থাকার দাবিও করা হয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসব অভিযোগ করেছেন বলে দাবি করা হলেও তাঁদের বক্তব্যের স্বাধীন যাচাই করা সম্ভব হয়নি। একইভাবে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে তাঁর বর্তমান যোগাযোগ রয়েছে—এমন দাবিরও স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
অন্য এক কর্মকর্তার দাবি, তারেক আনোয়ার জাহেদী দায়িত্ব নেওয়ার পর আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট হিসেবে পরিচিত কিছু কর্মকর্তা অর্থের বিনিময়ে সুবিধাজনক জায়গায় বদলি বা পদায়ন পেয়েছেন। এ অভিযোগেরও স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা হয়নি।
দুদকের নজরদারি কতদূর?
এদিকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। একজন দুদক কর্মকর্তার বক্তব্য হিসেবে বলা হয়েছে, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের বড় কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে অনুসন্ধান চলছে। তারেক আনোয়ার জাহেদীর বিষয়েও অভিযোগ পাওয়া গেলে অনুসন্ধানের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
সব মিলিয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. তারেক আনোয়ার জাহেদীকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ এখন কেবল বদলি-পদায়নের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই। বদলি-বাণিজ্য, নিয়োগ, ঠিকাদারি কাজ, অর্থ লেনদেন, অধস্তন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক যোগাযোগ—বিভিন্ন অভিযোগের সমন্বয়ে বিষয়টি ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে।
অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে বদলি-পদায়নের নথি, নিয়োগসংক্রান্ত কাগজপত্র, দরপত্রের নথি, প্রকল্পের অর্থ ছাড় ও কাজের অগ্রগতি, সংশ্লিষ্টদের সম্পদের তথ্য এবং অভিযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ মনে করছেন। একই সঙ্গে যেসব অভিযোগের পক্ষে নথি বা প্রমাণ রয়েছে এবং যেগুলোর স্বাধীন যাচাই এখনও হয়নি—দুটিকে পৃথকভাবে বিবেচনা করে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য বের করার দাবি উঠেছে।
পরবর্তীতে দুদকে অভিযোগের প্রস্তুতি চলছে। বিস্তারিত থাকছে পরবর্তী প্রতিবেদনে। চলবে…….
