ফেসবুকে বন্ধুত্ব, ভিডিও কলে ঘনিষ্ঠতা, পরে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ—বিভিন্ন সূত্রের দাবি; সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য মেলেনি, তবে একাধিক অভিযোগ আদালতে তদন্ত চলমান।
রাজধানীকেন্দ্রিক একটি কথিত হানিট্র্যাপ চক্রকে ঘিরে নতুন করে নানা অভিযোগ সামনে এসেছে। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের মাধ্যমে প্রভাবশালী, ব্যবসায়ী ও বিত্তশালী ব্যক্তিদের টার্গেট করে ব্ল্যাকমেইলের একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন সিতুল মুনা চৌধুরী।
অভিযোগ রয়েছে, একটি অনলাইন পোর্টালে এ-সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের পর সাংবাদিককে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা করা হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, তৃতীয় পক্ষকে ব্যবহার করে এ ধরনের হুমকি দেওয়া হয়েছে, যা সাইবার অপরাধের আওতায় পড়তে পারে বলে তারা মনে করছেন।
বিভিন্ন সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে ফেসবুকে বন্ধুত্ব, এরপর মেসেঞ্জারে নিয়মিত যোগাযোগ এবং ভিডিও কল বা ব্যক্তিগত সাক্ষাতের মাধ্যমে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করা হতো। পরে গোপনে ধারণ করা ছবি বা ভিডিও দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সিতুল মুনা চৌধুরীর একাধিক ফেসবুক আইডি রয়েছে, যেগুলো কথিতভাবে যোগাযোগ ও ব্ল্যাকমেইলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হতো।
সূত্রগুলোর দাবি, রাজধানীর ধানমন্ডি, গুলশান, বনানী, বারিধারা, নিকেতন, মিরপুর ও উত্তরাসহ বিভিন্ন অভিজাত এলাকার ফ্ল্যাট, হোটেল ও গেস্টহাউস ব্যবহার করে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করা হতো। সম্প্রতি মিরপুর-২ এলাকার একটি ফ্ল্যাট নিয়েও একই ধরনের অভিযোগ সামনে এসেছে।
একাধিক সূত্রের বক্তব্য, অতীতে একাধিক বিয়ে এবং বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলে পরবর্তীতে ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সিতুল মুনা চৌধুরীর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নিজেকে সাবেক ঘনিষ্ঠ সহযোগী পরিচয় দেওয়া মোস্তফা সরদার ওরফে টোকাই মোস্তফা দাবি করেন, তিনি বর্তমানে এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন। তাঁর ভাষ্য, মালয়েশিয়া প্রবাসী মিজানুর রহমানের কাছ থেকে ২৫ লাখ টাকা আদায়ের ঘটনায় তিনি আপত্তি জানালে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। তিনি আরও দাবি করেন, অতীতে পার্টনারশিপের মাধ্যমে অনেক মানুষকে ফাঁদে ফেলার ঘটনা ঘটেছে, তবে এখন তিনি আর এ ধরনের কর্মকাণ্ডে থাকতে চান না।
হানি ট্যাপে ফাঁসাতে একাধিক ফেসবুক আইডি ব্যবহার সিতুল মুনার। ফাইল ছবি
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যাংক কর্মকর্তাও অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিনের পরিচয়ের সুযোগ নিয়ে তাঁর কাছ থেকেও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে বিপুল অর্থ আদায় করা হয়েছে।
বিভিন্ন সূত্রের অভিযোগ, চাহিদামতো অর্থ বা সুবিধা না দিলে মামলা, সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা কিংবা বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করা হতো। আপস-মীমাংসার নামেও অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
আরও একটি সূত্রের দাবি, মালয়েশিয়া প্রবাসী মিজানুর রহমান নামে এক ব্যক্তি বনানীর একটি গেস্টহাউসে যাওয়ার পর কথিত হানিট্র্যাপের শিকার হয়ে ২৫ লাখ টাকা হারান। তবে এ অভিযোগের স্বাধীন যাচাই সম্ভব হয়নি।
গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে হানিট্র্যাপ চক্রগুলো শুধু অর্থ আদায় নয়, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগেও নজরদারিতে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সংস্থা এ ধরনের অভিযোগ তদন্ত করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
প্রতিবেদনে উল্লিখিত সব তথ্য বিভিন্ন অভিযোগকারী ও সূত্রের বরাতে উপস্থাপিত হয়েছে। উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা আদালতে প্রমাণিত নয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বসহ প্রকাশ করা হবে।
