দেশের লাখো শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের জন্য এলো নতুন শিক্ষাবর্ষের বড় খবর। ২০২৭ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সম্ভাব্য সময়সূচি প্রকাশ করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। প্রস্তাবিত রুটিন অনুযায়ী, ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে আগামী ৭ জানুয়ারি এবং এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হবে ৬ জুন থেকে।
বৃহস্পতিবার দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের যৌথভাবে প্রকাশিত পৃথক দুটি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। ইতোমধ্যে প্রস্তাবিত রুটিন অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে। মন্ত্রণালয় প্রয়োজন মনে করলে সংশোধন বা পরিবর্তনের পর তা চূড়ান্ত করা হবে বলে জানিয়েছে বোর্ড কর্তৃপক্ষ।
জানুয়ারির শীতেই শুরু এসএসসির লড়াই
প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, ৭ জানুয়ারি বাংলা (আবশ্যিক) ১ম পত্র ও সহজ বাংলা ১ম পত্র পরীক্ষার মধ্য দিয়ে শুরু হবে এসএসসি পরীক্ষা। প্রতিদিন সকাল ১০টায় পরীক্ষা শুরু হবে।
টানা এক মাসব্যাপী এ পরীক্ষার তত্ত্বীয় বা লিখিত অংশ শেষ হবে ৬ ফেব্রুয়ারি। এরপর ১১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সংগীতসহ সব বিষয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষা সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
জুনে এইচএসসি, দুই শিফটে পরীক্ষা
অন্যদিকে, ৬ জুন সকালবেলায় বাংলা (আবশ্যিক) ১ম পত্র পরীক্ষার মাধ্যমে শুরু হবে এইচএসসি পরীক্ষা। লিখিত পরীক্ষা চলবে ১৩ জুলাই পর্যন্ত।
প্রস্তাবিত রুটিন অনুযায়ী, এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে দুই শিফটে। সকালের শিফট সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এবং বিকালের শিফট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে।
লিখিত পরীক্ষা শেষে আগামী ১৮ জুলাইয়ের মধ্যে সব বিষয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ করার নির্দেশনা দিয়েছে শিক্ষা বোর্ড।
পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগেই কেন্দ্রে থাকতে হবে
বোর্ডের বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই পরীক্ষা শুরুর কমপক্ষে ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে প্রবেশ করে নিজ নিজ আসনে বসতে হবে। এছাড়া বিশেষ প্রয়োজনে যেকোনো সময় সময়সূচিতে পরিবর্তন আনার ক্ষমতা বোর্ড কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
সেশনজট কমাতেই আগাম পরীক্ষা
এদিকে বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, পরীক্ষার সময় এগিয়ে আনার ফলে শিক্ষার্থীদের সেশনজট কমবে এবং শিক্ষা কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খল হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট সব স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে একাধিক দফা আলোচনা করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
নতুন এই সময়সূচিকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যেই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে শুরু হয়েছে নতুন প্রস্তুতি, নতুন হিসাব আর নতুন স্বপ্নের পথচলা।
