ছবি সংগৃহীত
দেশের সর্বোচ্চ আদালত প্রাঙ্গণ যেন দুই দিন ধরে পরিণত হয়েছিল এক রাজনৈতিক-আইনি উত্তাপের মঞ্চে। ব্যানার, স্লোগান, প্রার্থীদের ব্যস্ত পদচারণা আর সমর্থকদের হিসাব-নিকাশে সরগরম ছিল সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি নির্বাচন।
বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় ও শেষ দিনের ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর রাত আটটার দিকে সমিতির মিলনায়তনে শুরু হয় ভোট গণনা। আর সেই মুহূর্ত থেকেই বাড়তে থাকে উত্তেজনার পারদ। গভীর রাত পর্যন্ত গণনাকক্ষের বাইরে অপেক্ষায় ছিলেন শত শত আইনজীবী, সমর্থক ও প্রার্থীরা। কার মুখে ফুটবে বিজয়ের হাসি—সেই প্রশ্নেই থমথমে পুরো আদালতপাড়া।
দ্বিতীয় দিনে ভোট দিয়েছেন ২ হাজার ২৭৭ জন আইনজীবী। এর আগে বুধবার প্রথম দিনে পড়ে ১ হাজার ৭৭১ ভোট। সব মিলিয়ে দুই দিনে মোট ৪ হাজার ৪৮ জন আইনজীবী তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ১১ হাজার ৯৭ জন। ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামেন ৪০ জন প্রার্থী। ফলে প্রতিটি পদেই ছিল মর্যাদা, প্রভাব আর নেতৃত্বের লড়াই।
ভোট শেষ হতেই মিলনায়তনের ভেতরে শুরু হয় ব্যালট গণনার নিঃশব্দ যুদ্ধ। বাইরে তখন চাপা উৎকণ্ঠা—কেউ মোবাইলে ফলের হিসাব কষছেন, কেউ আবার করিডোরে দাঁড়িয়ে শুনছেন ভেতরের খবর। রাত যত গভীর হয়েছে, উত্তেজনাও তত ছড়িয়ে পড়েছে আদালত চত্বরে।
এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ছাড়া তিনটি বড় প্যানেল সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়। বিএনপি-সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল, জামায়াত-সমর্থিত আইনজীবী ঐক্য প্যানেল এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সমর্থিত লাল-সবুজ প্যানেলের মধ্যে চলে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা।
তবে নির্বাচন ঘিরে বিতর্কও ছিল কম নয়। আওয়ামী লীগ-সমর্থিত আইনজীবীরা মনোনয়নপত্র জমা দিলেও যাচাই-বাছাই ছাড়াই ৪২ জনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। এ ঘটনাকে ঘিরে আদালতপাড়ায় তৈরি হয় নানা আলোচনা, চাপা ক্ষোভ ও রাজনৈতিক গুঞ্জন।
এখন পুরো আইনাঙ্গনের নজর এক জায়গায়—গণনাকক্ষ। কারণ, এই ফলই ঠিক করবে আগামী দিনে দেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী আইনজীবী সংগঠনের নেতৃত্ব কার হাতে যাচ্ছে।
