আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম। ছবি: আইএসপিআর
ঢাকা সেনানিবাসে বৃহস্পতিবার যেন তৈরি হয়েছিল এক ভিন্ন আবহ। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, সংকট মোকাবিলা ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধিতে সশস্ত্র বাহিনীর অবদানকে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার প্রত্যয়ে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর পরিদর্শনে যান প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম।
পরিদর্শনকালে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, দেশের মানুষের সামনে সশস্ত্র বাহিনীর বহুমাত্রিক ভূমিকা আরও দৃশ্যমান করতে হবে। সঠিক তথ্যপ্রবাহ, আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থা এবং জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমেই জনগণের আস্থা ও সচেতনতা আরও শক্তিশালী হবে।
তার ভাষায়, অনেক সময় সীমিত প্রচার, সংরক্ষণশীল তথ্য পরিবেশন এবং পর্যাপ্ত জনসম্পৃক্ততার অভাবে সশস্ত্র বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ডের প্রকৃত চিত্র মানুষের সামনে পৌঁছায় না। অথচ দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি দুর্যোগ, সংকট কিংবা যেকোনো জাতীয় দুর্যোগে সশস্ত্র বাহিনী নীরবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও মানবিক ভূমিকা বিশ্বদরবারে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছে। তাই এই ইতিবাচক কর্মকাণ্ডগুলো তথ্যনির্ভর, দায়িত্বশীল ও গ্রহণযোগ্য উপায়ে দেশবাসী এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে আরও শক্তভাবে তুলে ধরতে হবে।
এ সময় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আশরাফ উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনের শুরুতেই আইএসপিআর পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সামি উদ দৌলা চৌধুরী প্রতিরক্ষা উপদেষ্টাকে স্বাগত জানান। পরে তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে পরিচিত হন এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে কুশল বিনিময় করেন।
আইএসপিআরের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে পরিদপ্তরের সার্বিক কার্যক্রম, গণমাধ্যম সমন্বয়, সংবাদ পরিবেশন, গবেষণা ও প্রকাশনা কার্যক্রম, তথ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকাণ্ড জনগণের কাছে তুলে ধরার চলমান উদ্যোগ সম্পর্কে বিস্তারিত উপস্থাপন করা হয়।
একই সঙ্গে বিদ্যমান সক্ষমতা, প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনার বিষয়েও অবহিত করা হয় প্রতিরক্ষা উপদেষ্টাকে।
ব্রিফিং শেষে তিনি পরিদপ্তরের বিভিন্ন শাখা ঘুরে দেখেন এবং সরেজমিনে কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় তিনি আইএসপিআরের কার্যক্রমকে আরও আধুনিক, গবেষণানির্ভর, সময়োপযোগী ও জনবান্ধব করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে দ্রুত ও নির্ভুল তথ্য পরিবেশনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থ, জনগণের আস্থা এবং সশস্ত্র বাহিনীর পেশাগত ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখতে আইএসপিআরকে আরও কার্যকর ও গতিশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
রাষ্ট্রের নিরাপত্তার নেপথ্যে থাকা সশস্ত্র বাহিনীর নীরব দায়িত্ববোধ ও আত্মত্যাগকে মানুষের আরও কাছে পৌঁছে দেওয়ার এই আহ্বান নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে দেশজুড়ে।
