সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা নির্ধারণী মহারণে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে দারুণ লড়াই উপহার দিচ্ছে বাংলাদেশ। গোয়ায় অনুষ্ঠিত ফাইনালের প্রথমার্ধ শেষে স্কোরলাইন ১-১। শেষ মুহূর্তে উইঙ্গার ঋতুপর্ণা চাকমার চোখধাঁধানো গোলে সমতায় ফিরে বিরতিতে গেছে পিটার বাটলারের শিষ্যরা।
শুরু থেকেই দুই দলই ছিল সতর্ক। বাংলাদেশ রক্ষণ সামলে ধীরে ধীরে আক্রমণে ওঠার কৌশল নেয়। তবে ম্যাচের ১২তম মিনিটেই এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পায় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। বাঁ দিক থেকে ঋতুপর্ণার নিখুঁত ক্রস গোলমুখে পৌঁছালেও খুব কাছ থেকে শামসুন্নাহার বল স্পর্শ করতে ব্যর্থ হন।
এর মাত্র দুই মিনিট পর আবারও ভারতের রক্ষণে আতঙ্ক ছড়ান বাংলাদেশের মেয়েরা। বক্সের সামনে বল পেয়ে একা গোলরক্ষককে সামনে পেয়েও দ্রুত শট নিতে পারেননি তহুরা খাতুন। সেই সুযোগে ভারতের ডিফেন্ডার জুলি কিশান এগিয়ে এসে বিপদমুক্ত করেন দলকে।
বাংলাদেশের মতো ভারতও সুযোগ তৈরি করেছিল। ১৬তম মিনিটে গোলরক্ষক মিলি আক্তারের সামান্য ভুলে তৈরি হওয়া পরিস্থিতিতে আস্তাম ওরাওনের সামনে ফাঁকা পোস্ট খুলে যায়। কিন্তু ভারতীয় ফরোয়ার্ডের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বাংলাদেশ। পরে ৩৮তম মিনিটে মনিষা কল্যাণের শক্তিশালী শট অসাধারণ দক্ষতায় রুখে দেন মিলি।
প্রথম ৪০ মিনিটে গোলশূন্য লড়াই চললেও নাটকীয়তা জমে ওঠে বিরতির ঠিক আগে। ৪২তম মিনিটে ভাগ্যের সহায়তায় এগিয়ে যায় ভারত। পেয়ারি জাজার আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে ডিফেন্ডার সুরভীর গায়ে লেগে বলের গতিপথ বদলে যায়। অনেকটা সামনে এগিয়ে থাকা গোলরক্ষক মিলির মাথার ওপর দিয়ে বল জালে জড়িয়ে পড়লে ১-০ ব্যবধানে লিড নেয় ভারত।
তবে পিছিয়ে পড়েও মনোবল হারায়নি বাংলাদেশ। বরং জবাব আসে দুর্দান্ত এক গোলের মাধ্যমে। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে আনিকার কাছ থেকে বল পেয়ে তহুরা চমৎকার একটি থ্রু পাস বাড়ান ঋতুপর্ণা চাকমার উদ্দেশে। বাঁ প্রান্ত দিয়ে দ্রুতগতিতে বক্সে ঢুকে নিখুঁত কোণাকুণি শটে ভারতীয় গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন তিনি। মুহূর্তেই উল্লাসে ফেটে পড়ে বাংলাদেশ শিবির।
ঋতুপর্ণার সেই নান্দনিক গোলেই ১-১ সমতায় ফিরে প্রথমার্ধ শেষ করে বাংলাদেশ। শিরোপার লড়াই এখন পুরোপুরি খোলা, আর দ্বিতীয়ার্ধে অপেক্ষা করছে আরও রোমাঞ্চকর এক অধ্যায়ের।
