বদলিকৃত চালক সাখাওয়াত। ফাইল ছবি
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের এক চালকের প্রশাসনিক বদলিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য, গুজব এবং অপপ্রচার ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অধিদপ্তরের অভ্যন্তরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
অধিদপ্তরের একাধিক সূত্রের দাবি, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিকল্পিতভাবে প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের অভিযোগ, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন এবং কিছু অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে বদলিকৃত চালক সাখাওয়াত হোসেন দীর্ঘদিন ধরে নিজের পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়োগ ও বদলির বিষয়ে প্রশাসনের ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন। তবে বর্তমান মহাপরিচালক ও পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) ওই ধরনের কোনো অনৈতিক প্রভাব বা সুপারিশ গ্রহণ না করায় তাদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বর্তমান প্রশাসনের নেতৃত্বে নিয়োগ ও বদলি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তার দাবি, দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক সুবিধা ভোগ করে আসা একটি গোষ্ঠী সেই সুযোগ হারিয়ে এখন বিভিন্ন মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে।
ফায়ার সার্ভিসের একাধিক সদস্যের অভিযোগ, চালক সাখাওয়াতের মাধ্যমে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে ও বাইরে নানা ধরনের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল। তবে বর্তমান মহাপরিচালক ও পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) প্রশাসনিক শৃঙ্খলা জোরদার এবং অনিয়ম প্রতিরোধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করায় ওই চক্রের স্বার্থে আঘাত লাগে। এরপর থেকেই তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্টরা।
অধিদপ্তরের আরও একাধিক সূত্র জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং কয়েকটি অনিবন্ধিত অনলাইন প্ল্যাটফর্মে মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাহিদ কামাল এবং পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) শহীদ আতাহার হোসেনকে নিয়ে ধারাবাহিকভাবে নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব কর্মকাণ্ডের মূল উদ্দেশ্য প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করা, প্রশাসনিক কার্যক্রমে অযাচিত চাপ সৃষ্টি করা এবং কর্মকর্তাদের ভাবমূর্তি নষ্ট করা।
সূত্রগুলো আরও দাবি করেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন অভিযোগ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবস্থান বা আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে চালক সাখাওয়াত হোসেনের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে এ অভিযোগের বিষয়ে তার কোনো প্রতিক্রিয়া জানা সম্ভব হয়নি।
এদিকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, প্রতিষ্ঠানের সুনাম, শৃঙ্খলা ও স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করতে পারে—এমন যেকোনো অপপ্রচার, গুজব কিংবা বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য বা গুজবে বিশ্বাস না করার জন্য সবাইকে আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
উল্লেখ্য, প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলো সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবির ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি বা পক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
গুজবে বিশ্বাস না করার সবাইকে আহ্বান জানিয়েছেন তারা। নাম প্রকাশ না করতে ইচ্ছুক ফায়ার সার্ভিসের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, একটি সিন্ডিকেট চক্র নিয়োগ কার্যক্রম স্বচ্ছ হওয়ায় ডিজি ও পরিচালক এর বিরোধে প্রপাগাণ্ডা চালাচ্ছে। ইতোপূর্বে এই চক্রটি নিয়োগ বানিজ্য সাথে জড়িত ছিল। বর্তমান স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ বানিজ্য করতে না পারায়, চক্রটি দিশাহারা মিথ্যা প্রপাগাণ্ডা ব্যানার ফেস্টুন অনিবন্ধিত অনলাইন পোর্টাল অপ্রপাচার ও গুজব চালাচ্ছে। ডিজি ও পরিচালক স্বচ্ছতা জবাবদিহিতা নিশ্চিতের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। এজন্য ফায়ার সার্ভিসের সকল পর্যায়ে কর্মকর্তা কর্মচারী এ অপপ্রচাররে বিরুদ্ধে লিখতভাবে সিনিয়র সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বরাবর আবেদন করছে বলে জানায় একটি সূত্র।
