জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক সদস্য শহিদুল ইসলামের পরিবারের সম্পদ ও ব্যবসা নিয়ে ওঠা নানা অভিযোগের মধ্যেই এবার আলোচনায় এসেছেন তার ভাইয়ের প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী জহিরুল ইসলাম খোকন। একজন কর্মচারী হিসেবে পরিচিত হলেও ঢাকায় তার নামে বাড়িসহ উল্লেখযোগ্য সম্পদ রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব সম্পদের অর্থের উৎস কী এবং এর সঙ্গে শহিদুল ইসলামের পরিবারের ব্যবসায়িক ও আর্থিক সম্পর্ক রয়েছে কি না—তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
কর্মচারী থেকে সম্পদের মালিক—উৎস কোথায়?
সংশ্লিষ্ট সূত্রের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে শহিদুল ইসলামের ভাইয়ের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন জহিরুল ইসলাম খোকন। চাকরিজীবী হিসেবে পরিচিত এই ব্যক্তির আয়, চাকরির মেয়াদ ও বৈধ উপার্জনের সঙ্গে তার নামে থাকা বলে দাবি করা সম্পদের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
বিশেষ করে ঢাকায় তার নিজস্ব বাড়ি থাকার অভিযোগ সামনে আসার পর বিষয়টি নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে—সম্পত্তিটি কবে, কীভাবে এবং কোন অর্থের উৎস থেকে কেনা বা নির্মাণ করা হয়েছে? তার নামে থাকা অন্যান্য সম্পদেরও বৈধ উৎস কী, সেটিও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী।
শহিদুলের ভাইয়ের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কী সম্পর্ক?
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে জহিরুল ইসলাম খোকনের সঙ্গে শহিদুল ইসলামের পরিবারের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। শহিদুল ইসলামের ভাইদের ব্যবসা ও সম্পদ নিয়েও বিভিন্ন সময়ে নানা অভিযোগ উঠেছে। এমন প্রেক্ষাপটে ওই পরিবারের প্রতিষ্ঠানে কর্মরত একজন ব্যক্তির নামে উল্লেখযোগ্য সম্পদ থাকার অভিযোগ নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
তবে খোকনের নামে থাকা সম্পদের প্রকৃত পরিমাণ, সেগুলো অর্জনের সময়কাল এবং অর্থের উৎস সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এ প্রতিবেদনের হাতে আসেনি। ফলে এসব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই ও আইনগত তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগকারীর প্রস্তুতি দুদকে
এদিকে সূত্র জানিয়েছে, জহিরুল ইসলাম খোকনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন করেছেন অভিযোগকারী ব্যক্তি। অভিযোগে খোকনের সম্পদের উৎস, আয়-ব্যয়ের সামঞ্জস্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক সম্পর্ক খতিয়ে দেখার আবেদন জানানো হতে পারে বলে জানা গেছে।
মন্তব্য দিতে রাজি নন খোকন
অভিযোগ ও সম্পদের বিষয়ে জহিরুল ইসলাম খোকনের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি উল্লেখিত বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এখন প্রশ্ন উঠেছে—একজন কর্মচারী হিসেবে পরিচিত জহিরুল ইসলাম খোকনের নামে থাকা বলে দাবি করা সম্পদের প্রকৃত উৎস কী? শহিদুল ইসলামের পরিবারের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে এসব সম্পদের কোনো আর্থিক যোগসূত্র রয়েছে কি না—দুদকের তদন্ত হলে তারই উত্তর মিলতে পারে।
উল্লেখ্য যে, মোড়েলগঞ্জ উপজেলা ফুলহাতা গ্রামের বাসিন্দা মনিরুজ্জামান, সহিদুলের অবৈধ সম্পদের তদন্ত পুর্বক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করার লক্ষ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক চেয়ারম্যান বরাবর অভিযোগ দাখিলের প্রস্তুতি চলছে। বিশ্বস্ত সূত্রের বরাতে নিশ্চিত হওয়া গেছে। বিস্তারিত থাকছে পরবর্তী প্রতিবেদনে। চলবে……
