বরিশালের মুলাদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান তারিকুল হাসান খান মিঠুর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন রাজনৈতিক ও জনপ্রতিনিধির প্রভাব ব্যবহার করে তিনি নামে-বেনামে জমি, বাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। তবে অভিযোগে উল্লিখিত সম্পদ ও অর্থের উৎসের বিষয়ে স্বাধীনভাবে সব তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
পাঁচ ইটভাটা, হাজার হাজার শতাংশ জমির অভিযোগে তোলপাড় চললেও মিঠুর নেই কোনো জবাবদিহি।এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে মারাত্মক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। জনগণের একটাই দাবি, মিঠুর শাস্তি নিশ্চিত হওয়া।
স্থানীয় সূত্রের আরো অভিযোগ, মুলাদীতে মিঠুর মালিকানা বা সংশ্লিষ্টতায় অন্তত পাঁচটি ইটভাটা রয়েছে। মুলাদী পৌর শহরে প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি আলিশান বাড়ি নির্মাণের অভিযোগও রয়েছে। এছাড়া মুলাদী ও আশপাশের এলাকায় নিজের এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে প্রায় পাঁচ হাজার শতাংশ জমি কেনার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, তার সম্পদের পরিধি শুধু মুলাদীতেই সীমাবদ্ধ নয়। রাজধানীর মিরপুরে একটি ছয়তলা বাড়ি, বেইলি রোডে একাধিক বাণিজ্যিক স্পেস এবং পর্যটন নগরী কুয়াকাটায় আবাসিক হোটেলে মালিকানা বা আর্থিক স্বার্থ থাকার অভিযোগ রয়েছে।
চেয়ারম্যান থাকাকালে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ।উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মিঠুর বিরুদ্ধে সরকারি বরাদ্দ ও বিভিন্ন কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে। কাবিখা, বয়স্ক ভাতা, ভিজিএফ, খাদ্যের বিনিময়ে কর্মসূচি, সবখানে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, সরকারি বিভিন্ন প্রকল্প ও বরাদ্দের অর্থ আত্মসাৎ বা অপব্যবহার, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরি ও নৈশপ্রহরী নিয়োগে অর্থ গ্রহণ এবং সরকারি টিউবওয়েল বরাদ্দকে কেন্দ্র করে সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন পাইয়ে দেওয়ার নামে অর্থ আদায়, স্থানীয় সালিশ-বৈঠকে এক পক্ষকে সুবিধা দেওয়ার বিনিময়ে টাকা নেওয়া এবং এলাকায় চাঁদাবাজির মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
বৈধ আয়ের সঙ্গে সম্পদের সামঞ্জস্য নিয়ে রয়েছে স্থানীয়দের মিশ্র প্রতিক্রিয়া। অভিযোগে উল্লিখিত সম্পদের পরিমাণ সামনে আসার পর মিঠুর বৈধ ও ঘোষিত আয়ের সঙ্গে এসব সম্পদের সামঞ্জস্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
মিঠু ও তার পরিবারের নামে বা স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে বাস্তবে কী পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ রয়েছে, সেগুলো কখন এবং কীভাবে অর্জিত হয়েছে এবং অর্থের উৎস কী—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুসন্ধানের দাবি উঠেছে।
বিশেষ করে নির্বাচনী হলফনামা, আয়কর নথি, ভূমি রেকর্ড, কোম্পানি বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিকানার তথ্য এবং ব্যাংক লেনদেন যাচাই করা হলে সম্পদের প্রকৃত চিত্র ও অর্থের উৎস সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
এদিকে সূত্র জানিয়েছে, মিঠুর সম্পদের উৎস ও আয়-ব্যয়ের সামঞ্জস্য খতিয়ে দেখতে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
অভিযোগকারী মুলাদী পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোঃ রফিকুল ইসলাম মিঠুর সম্পদের বিষয়ে তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে দুদক চেয়ারম্যান বরাবর অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে তারিকুল হাসান খান মিঠুর বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
মিঠুর রাজনৈতিক প্রভাব, ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতির মাধ্যমে গোপন ভান্ডার নিয়ে বিস্তারিত থাকছে পরবর্তী প্রতিবেদনে। চলবে……
