গ্রেপ্তার হওয়া পুলিশ সদস্য শফিকুল ইসলাম। ছবি: পুলিশ সূত্রে পাওয়া
রাজধানীর দক্ষিণখানে ৫ হাজার ৩১০ পিস ইয়াবাসহ ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পল্লবী থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) শফিকুল ইসলাম ও তার সহযোগী ওয়াসিমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে রাজধানীর দক্ষিণখান ও আশপাশের এলাকায় ইয়াবা বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) রাতে দক্ষিণখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফহিম উদ্দিন এবং পল্লবী থানার ওসি হাসান বশির সমতল মাতৃভূমি’কে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে রোববার মধ্যরাতে দক্ষিণখানের আজমপুর কাঁচাবাজার সংলগ্ন বিসমিল্লাহ্ পল্লী এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার শফিকুল ইসলাম টাঙ্গাইলের মধুপুর থানার মাঝিরা গ্রামের মৃত আব্দুল জলিলের ছেলে। অপর আসামি ওয়াসিম কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার তালভাঙ্গা গ্রামের আব্দুল মোতালেবের ছেলে।
এ ঘটনায় দক্ষিণখান থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) বখতিয়ার বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেছেন।
যেভাবে ধরা পড়ে ওয়াসিম
এজাহার সূত্রে জানা যায়, শফিকুল ইসলাম ডিএমপির পল্লবী থানায় এএসআই হিসেবে কর্মরত। তিনি ও তার সহযোগী ওয়াসিম বিসমিল্লাহ্ পল্লীর একটি ভবনের নিচতলার এ-ওয়ান ফ্ল্যাটে থাকতেন।
গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ওই বাসার সামনে অভিযান চালিয়ে প্রথমে ওয়াসিমকে আটক করে পুলিশ। এ সময় তার পরনে থাকা জিন্স প্যান্টের সামনের ডান পকেটে জিপার পলিপ্যাকে রাখা ৫০ পিস ইয়াবা পাওয়া যায়।
পরে ওয়াসিমকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিসমিল্লাহ্ পল্লীর ৬৭ নম্বর বাড়ির নূর বিল্ডিংয়ের এ-ওয়ান ফ্ল্যাটে অভিযান চালায় পুলিশ।
ফ্ল্যাটে মিলল ইয়াবার মজুত
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে শফিকুল ইসলাম পালানোর চেষ্টা করলে তাকে আটক করা হয়। এ সময় তার সঙ্গে থাকা কালো রঙের একটি ব্যাগ তল্লাশি করে নীল রঙের জিপারে রাখা ২০০ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়।
এ ছাড়া ওই ফ্ল্যাটের শয়নকক্ষের কাঠের বক্সের ড্রয়ার থেকে আটটি পলিপ্যাকের জিপারে থাকা ১ হাজার ৪৮০ পিস ইয়াবা এবং আরও ১৮টি জিপার থেকে ৩ হাজার ৫৮০ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়। সব মিলিয়ে উদ্ধার করা হয় ৫ হাজার ৩১০ পিস ইয়াবা।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুজন রাজধানীর দক্ষিণখান ও আশপাশের এলাকায় মাদকদ্রব্য বিক্রি করে আসার কথা জানিয়েছে।
দক্ষিণখান থানার ওসি ফহিম উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, দক্ষিণখানের কাঁচাবাজার সংলগ্ন বিসমিল্লাহ্ পল্লী এলাকা থেকে ৫ হাজার ৩১০ পিস ইয়াবাসহ শফিকুল ইসলাম ও ওয়াসিম নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শফিকুল ইসলাম পুলিশের এএসআই কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি ফহিম উদ্দিন বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া শফিকুল ইসলাম পুলিশের এএসআই বলে শুনতে পেয়েছি। তবে আমরা এখনও নিশ্চিত নই। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
তবে পুলিশের একাধিক সূত্র গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, শফিকুল ইসলাম পল্লবী থানায় এএসআই হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
বিষয়টি নিয়ে পল্লবী থানার ওসি হাসান বশিরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, শফিকুল ইসলাম তার থানায় যোগদানের পর আট থেকে দশ দিন দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এরপর থেকে তিনি অনুপস্থিত রয়েছেন। তবে কী কারণে তিনি অনুপস্থিত, সে বিষয়ে কাউকে কিছু জানাননি।
ঘটনাটি ঘিরে পুলিশের ভেতরে কর্মরত এক সদস্যের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।
