ময়মনসিংহে মাদকবিরোধী কার্যক্রম আরও জোরদার করতে গোয়েন্দা তথ্য ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতাকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। স্থানীয় মানুষের কাছ থেকে মাদকসংক্রান্ত নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া গেলে তা যাচাই-বাছাই করে নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয় বলে জানিয়েছেন ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (পরিদর্শক) মাহবুবুল হক।
ডিবিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজের কাজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক কোনটি—এমন প্রশ্নের জবাবে মাদক উদ্ধারের বিষয়টিকেই অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানান তিনি। পরিদর্শক মাহবুবুল হক বলেন, বিশেষভাবে মাদক উদ্ধারে সক্রিয় ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছি।
ডিবির কাছে মাদকসংক্রান্ত কোনো তথ্য বা অভিযোগ পৌঁছালে সেটি কীভাবে এগিয়ে নেওয়া হয়—জানতে চাইলে তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী স্বাভাবিকভাবেই প্রয়োজনীয় কার্যবিধি পরিচালনা করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গোয়েন্দা কার্যক্রমের বড় একটি অংশই পরিচালিত হয় সাধারণ মানুষের অগোচরে। ফলে কোনো তথ্য পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত না নিয়ে তথ্যের সত্যতা যাচাই, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ এবং প্রমাণের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয় বলে জানান ডিবি কর্মকর্তা।
দায়িত্ব পালনের সময়ে কোন ধরনের অপরাধ মোকাবিলাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে—এমন প্রশ্নেও মাদকবিরোধী কার্যক্রমের কথাই স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন পুলিশ পরিদর্শক মাহবুবুল হক। তাঁর ভাষায়, এক কথায় মাদক উদ্ধার। বেশির ভাগ মাদক নিয়েই সক্রিয় থাকি, অর্থাৎ মাদকবিরোধী ভূমিকায় নিজেকে ব্যস্ত রাখি।
তবে মাদকের বিস্তার ঠেকাতে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানই যথেষ্ট নয়—এমন বাস্তবতায় স্থানীয় মানুষের দায়িত্বশীল সহযোগিতাকেও গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে ডিবি। বিশেষ করে মাদক কেনাবেচা, সরবরাহ বা সংশ্লিষ্ট অপরাধ সম্পর্কে স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্য অনেক সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে সহায়তা করতে পারে।
সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ডিবি ইনেস্পক্টর মাহবুবুল হক বলেন, সাহস করে মাদকের তথ্য দেওয়া হলে তথ্যদাতার নিরাপত্তার স্বার্থে পরিচয় গোপন রেখে কার্যক্রম পরিচালনা করা সহজ হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদকবিরোধী কার্যক্রমে স্থানীয় পর্যায়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে অভিযোগ পাওয়া মাত্র কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত না করে তথ্য যাচাই, প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহ এবং যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা জরুরি। একই সঙ্গে তথ্যদাতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সাধারণ মানুষের সহযোগিতার ক্ষেত্রও আরও বিস্তৃত হতে পারে।
ডিবির ওসি মাহবুবুল হকের বক্তব্যে মূলত দুটি বিষয় সামনে এসেছে—মাদকবিরোধী কার্যক্রমে সক্রিয় থাকা এবং অপরাধসংক্রান্ত তথ্য দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করতে সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করা। পাশাপাশি অভিযোগের ভিত্তিতে যথাযথ যাচাই-বাছাই ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
ময়মনসিংহে মাদক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ফল পেতে ডিবির নিয়মিত অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের দায়িত্বশীল সহযোগিতা, তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা এবং আইনগত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা—এই তিনটি বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে মাদকবিরোধী লড়াইয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সচেতন নাগরিকদের অংশগ্রহণও হয়ে উঠতে পারে কার্যকর প্রতিরোধের অন্যতম শক্তি।
