‘জাকিরুল হক। ছবি: সংগৃহীত
ধানের শীষের জন্য যাদের কাছে ভোট চেয়েছিলাম, তাদের কাছে মাফ চাই। আপনাদের পা ধরি ভাই, কেউ আর এসএমএস বা কল দিয়েন না। একটা ভোটই তো চেয়েছিলাম, জায়গা-জমি তো আর চাইনি’—ফেসবুকে এমন পোস্ট দেওয়ার পর জামালপুর জেলা ছাত্রদলের সহসাধারণ সম্পাদক জাকিরুল হককে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
সোমবার রাতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে জাকিরুল হককে জামালপুর জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সংগঠনের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন।
তবে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের ওই বিজ্ঞপ্তিতে জাকিরুল হকের ফেসবুক পোস্টের বিষয়টি সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি।
এর আগে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া পোস্টে জাকিরুল হক লেখেন, ‘এবারের মতো আমাকে মাফ করে দেন। কেউ আর কল বা এসএমএস দিয়েন না, খুবই বিরক্ত হচ্ছি।
একই পোস্টে তিনি আরও লেখেন, ‘দলের আগে দেশ, আমি দেশের পক্ষে, আমি সাধারণ জনগণের পক্ষে।
জাকিরুল হকের ওই পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এরপরই তাকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের কথা জানায় কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।
বহিষ্কারের বিষয়ে জাকিরুল হক বলেন, নির্বাচনের সময় তিনি সাধারণ মানুষের কাছে ধানের শীষে ভোট চেয়েছেন। সাধারণ মানুষ ধানের শীষে ভোটও দিয়েছেন। কিন্তু জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষ তাকে মোবাইলে এসএমএস ও কল করে নানা ধরনের বিরূপ প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছিলেন। সাধারণ মানুষের সেই ক্ষোভ ও কষ্টের কথাই তিনি ফেসবুক পোস্টে তুলে ধরেছেন।
জাকিরুল হক বলেন, দেশের সাধারণ মানুষের পক্ষে কথা বলার কারণে যদি আমাকে বহিষ্কার করা হয়, তাতেও আমি মনে করি অন্যায় কিছু করিনি। দেশের মানুষের পক্ষে কথা বলা অপরাধ নয়।
এ বিষয়ে জামালপুর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আতিকুল ইসলাম সুমিল বলেন, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কেন্দ্র থেকে জাকিরুল হককে বহিষ্কার করা হয়েছে।
