ফাইল ছবি
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ভাত খাওয়ার কথা বলে ষষ্ঠ শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে (১২) ধর্ষণের অভিযোগে এক কিশোরকে (১৩) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে তাকে গ্রেপ্তারের পর বিকেলে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ওই ছাত্রী ও অভিযুক্ত কিশোর সম্পর্কে চাচাতো ভাই-বোন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, দুই বছর আগে ক্যানসারজনিত রোগে ওই ছাত্রীর মা মারা যান। এরপর থেকে সে দাদির কাছে থাকত। গত ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ছাত্রীর বাবা অভিযুক্ত কিশোরকে ১০ টাকা দেন এবং টাকাটি তার মেয়েকে দিয়ে আসতে বলেন।
বাবার দেওয়া টাকা নিয়ে ওই কিশোর তাদের বাড়িতে গেলে ছাত্রী তখন নিজ ঘরে ভাত খাচ্ছিল। এ সময় ভাত খাওয়ার কথা বলে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়।
পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী ও অভিযুক্ত সম্পর্কে চাচাতো ভাই-বোন। ঘটনার পর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে পারিবারিকভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে সোমবার পুলিশ ঘটনাটি জানতে পেরে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে তার বাবা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণের মামলা করেন।
ওই মামলার ভিত্তিতে মঙ্গলবার সকালে অভিযুক্ত কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার বাদী বলেন, ‘মেয়েকে ১০ টাকা দেওয়ার জন্য ওই ছেলেকে বাড়িতে পাঠিয়েছিলাম। তখন আমার মেয়ে ভাত খাচ্ছিল। সে সময় ভাত খাওয়ার কথা বলে লম্পট ছেলে আমার মেয়েকে ধর্ষণ করেছে। আমি বিচারের আশায় মামলা করেছি।’
তবে পারিবারিকভাবে মীমাংসার চেষ্টা হয়েছিল কি না—এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি বাদী।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, ‘সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত বলা যাবে।
উল্লেখ্য যে, প্রতিবেদনের শুরুতে ভুক্তভোগীকে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী বলা হয়েছে, আর ওসির বক্তব্যে সপ্তম শ্রেণির বলা হয়েছে। প্রকাশের আগে শ্রেণিটি সংশ্লিষ্ট নথি বা পুলিশের বক্তব্য থেকে নিশ্চিত করা ভালো। তবে বিষয়টি আদালতে মামলা নিষ্পত্তিতে চূড়ান্তভাবে মিমাংসিত হবে।
