দরপত্র ছাড়াই সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) জন্য ৩টি জিপ, ১০০টি প্যাট্রল পিকআপ এবং ৬০টি এসি মাইক্রোবাস কেনার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। রাষ্ট্র মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ থেকে এসব যানবাহন সংগ্রহ করা হবে।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন পায়। যানবাহনগুলো ‘র্যাব ফোর্সেসের আভিযানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্পের আওতায় কেনা হবে।
বৈঠক শেষে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান সাংবাদিকদের জানান, সময়সাপেক্ষ উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতির পরিবর্তে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এসব যানবাহন কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি বলেন, “আমরা সরকারের টাকা সরকারের ঘরেই রাখছি। প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ দেশের প্রথম গাড়ি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এবং এটি রাষ্ট্রের মালিকানাধীন। তাই সেখান থেকেই ক্রয় করা হচ্ছে।”
নির্বাচনের আগে যানবাহনগুলো সরবরাহ করা হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নয়। আজ শুধু নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অর্ডার, যন্ত্রাংশ আমদানি ও সংযোজন—সব মিলিয়ে সময় লাগবে। গাড়িগুলো পর্যায়ক্রমে সরবরাহ করা হবে।”
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রকল্পটি ২০১৮ সালের ৭ নভেম্বর একনেক সভায় অনুমোদিত হয়। এর মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০১৮ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। যানবাহন সংকট নিরসনের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় র্যাবের কার্যক্রম আরও কার্যকর ও আধুনিক করতেই প্রকল্পটি নেওয়া হয়।
বৈঠকে জানানো হয়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জরুরি ভিত্তিতে এসব যানবাহন কেনা প্রয়োজন। তবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে সময় বেশি লাগায় এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকারি ক্রয় আইন (পিপিএ-২০০৬) এর ৬৮ ধারা অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজন দেখিয়ে সরাসরি ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অন্যান্য সিদ্ধান্ত-
এদিনের বৈঠকে ঢাকা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনে মাল্টিমোডাল হাব নির্মাণ প্রকল্পটি পিপিপি তালিকা থেকে প্রত্যাহারের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। জায়গার স্বল্পতা, সম্ভাব্যতা সমীক্ষা না হওয়া এবং দীর্ঘদিন প্রকল্প কার্যক্রম স্থবির থাকায় রেলপথ মন্ত্রণালয় এ প্রস্তাব তোলে।
এছাড়া ভোলা থেকে এলএনজি আকারে নদীপথে গ্যাস পরিবহন করে শিল্পকারখানায় সরবরাহের একটি প্রস্তাব এবং ক্ষতিগ্রস্ত আলু চাষিদের ভর্তুকি প্রদানের দুটি পৃথক প্রস্তাব বৈঠক থেকে প্রত্যাহার করা হয়।
