আদালতের নিষেধাজ্ঞা ও প্রশাসনিক সমঝোতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বোয়ালদহের হাটশ হরিপুরে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী একটি পরিবারের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীরা বলছেন—দীর্ঘদিনের বিরোধে আদালতের রায় পাওয়ার পরও প্রতিপক্ষ পেশিশক্তি প্রদর্শন করে জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
মৃত আব্দুল মালেক মাস্টারের ছেলে রোকিমুজাম্মান বাদী হয়ে ৮ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন মো. চমন, মো. চঞ্চল, মো. সমুন, মো. মামুন, মো. রাকিবুল, মো. সাকিবুল, মো. শিপন ও মো. ফেলু হাজী। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ—বাদীর মা মোছা. রিনা খাতুন ও বোন মোছা. রুমা পারভীনের নামীয় জমি জোরপূর্বক দখলের জন্য দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ সৃষ্টি করে আসছে।
আদালতের ১৪৪ ধারা, তবু থামেনি বিরোধ- ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আদালতে মামলা হলে মৃত মালেক মাস্টারের ওয়ারিসরা রায় ও ১৪৪ ধারা জারি করাতে সক্ষম হন। এমনকি বিষয়টি আগে কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশও মীমাংসা করে দেয়। কিন্তু অভিযোগ—সমঝোতার পরও হুমকি ও ভয়ভীতি অব্যাহত থাকে।
সকালবেলার হামলা, রক্তাক্ত তুষার-
অভিযোগে বলা হয়, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে অভিযুক্তরা বোয়ালদহের বিরোধপূর্ণ জমিতে বালু ফেলতে শুরু করে। এ সময় বাদীর চাচাতো ভাই মো. তুষার (২৭) বাধা দিতে গেলে পরিস্থিতি হঠাৎ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ১ থেকে ৭ নম্বর অভিযুক্ত দেশীয় অস্ত্র—লোহার রড, বাঁশের লাঠি ও হকস্টিক নিয়ে তুষারের ওপর চড়াও হয়। অকথ্য গালিগালাজের পর তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ইট নিক্ষেপ করে তার পায়েও আঘাত করা হয়। এতে তার হাত, পা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফুলে যাওয়া ও জখমের চিহ্ন দেখা যায়।
পরিবারের দাবি, বাড়িতে অন্য কেউ না থাকায় পূর্বপরিকল্পিতভাবেই তাকে একা পেয়ে হামলা চালানো হয় এবং প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী পরিবার বলছে— আদালতের রায় থাকা সত্ত্বেও জমি দখলের চেষ্টা করছে। প্রকাশ্যে হামলা ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে। প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ ছাড়া আমাদের নিরাপত্তাহীনতা কাটবে না। এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ভূক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
