রাষ্ট্র পরিচালনায় নতুন গতি আনতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার ঘনিষ্ঠ ১০ উপদেষ্টার মধ্যে দপ্তর বণ্টন সম্পন্ন করেছেন। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা প্রজ্ঞাপনে এই দায়িত্ব বণ্টনের ঘোষণা আসে, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি করেছে ব্যাপক আলোচনা ও কৌতূহল।
১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন সরকার গঠনের পর মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় এই ১০ জনকে উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এবার নির্দিষ্ট দায়িত্ব পাওয়ায় প্রশাসনিক কার্যক্রমে তাদের সরাসরি ভূমিকা আরও স্পষ্ট হলো।
মন্ত্রীর পদমর্যাদার উপদেষ্টারা
মন্ত্রীর মর্যাদায় থাকা তিন রাজনৈতিক অভিজ্ঞ নেতাকে সরাসরি রাজনৈতিক উপদেষ্টা করা হয়েছে—
মির্জা আব্বাস
নজরুল ইসলাম খান
রুহুল কবীর রিজভী
এছাড়া—
মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ → জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর → অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়।
প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টাদের দায়িত্ব
প্রতিমন্ত্রী মর্যাদার উপদেষ্টাদের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টনে এসেছে বৈচিত্র্য ও কৌশলগত ভারসাম্য—
শামসুল ইসলাম → প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়
মাহদী আমিন → শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়
রেহান আসিফ আসাদ → ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়
হুমায়ুন কবির → পররাষ্ট্র, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়
ডা. জাহেদ উর রহমান → পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি
রাজনৈতিক বার্তা ও তাৎপর্য
বিশ্লেষকদের মতে, অভিজ্ঞ রাজনীতিকদের রাজনৈতিক উপদেষ্টা রেখে এবং অর্থনীতি, শিক্ষা, প্রযুক্তি ও কূটনীতির মতো খাতে পেশাদারদের যুক্ত করে সরকার একটি সমন্বিত প্রশাসনিক কাঠামো গড়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।
বিশেষ করে মাহদী আমিনের হাতে শিক্ষা থেকে শ্রমবাজার—এমন বিস্তৃত খাতের দায়িত্ব এবং হুমায়ুন কবিরের তত্ত্বাবধানে কূটনীতি ও বিমান পরিবহন খাত যাওয়াকে কৌশলগত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, উপদেষ্টাদের এই দায়িত্ব বণ্টন নতুন সরকারের নীতিগত অগ্রাধিকার ও ক্ষমতার অভ্যন্তরীণ ভারসাম্যের স্পষ্ট প্রতিফলন—এখন দেখার বিষয়, মাঠপর্যায়ে এর বাস্তব প্রভাব কতটা দৃশ্যমান হয়।
