ছবি : সমতল মাতৃভূমি
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার করতোয়া নদীর সোনতোলা ঘাটে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে তিন দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান পানসি নৌকা বাইচ উৎসবের ফাইনাল। নৌকা বাইচকে ঘিরে শনিবার দুপুর থেকেই নদীর দুই পাড়ে নামে হাজারো মানুষের ঢল। ঢাক-ঢোলের বাদ্য, মাঝি-মাল্লাদের বৈঠার ছন্দ আর দর্শকদের করতালিতে পুরো নদীপাড় পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত উৎসবস্থলে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে এ প্রতিযোগিতার ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মমতাজ উদ্দিন মাস্টারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মিলকান হোসেন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া-সলঙ্গা) আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।
আয়োজকরা জানান, গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি ও খেলাধুলাকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতেই এ নৌকা বাইচের আয়োজন করা হয়েছে। তিন দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতায় উল্লাপাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী উপজেলার মোট ২০টি নৌকা অংশ নেয়।
শনিবার দুপুর গড়াতেই করতোয়া নদীর দুই তীরে বাড়তে থাকে দর্শনার্থীদের ভিড়। উল্লাপাড়াসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ হাজারো মানুষ নদীর দুই পাড়ে জড়ো হন। নদীর বুকে একের পর এক নৌকা ছুটে চলার দৃশ্য উপভোগ করতে কেউ দাঁড়িয়ে ছিলেন নদীর তীরে, আবার কেউ নৌকায় চড়ে উপভোগ করেন রোমাঞ্চকর এ প্রতিযোগিতা।
বৈঠার ছন্দে নৌকার দ্রুতগতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে দর্শকদের উচ্ছ্বাস। প্রতিযোগিতার প্রতিটি মুহূর্তে করতালি, উল্লাস ও হর্ষধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে করতোয়া নদীর পাড়। দীর্ঘদিন পর এমন বড় আয়োজন ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যেও দেখা যায় ব্যাপক আনন্দ-উচ্ছ্বাস।
‘নিজস্ব সংস্কৃতির সঙ্গে তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করতে হবে’
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, গ্রামবাংলার সুস্থধারার সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই এ নৌকা বাইচের আয়োজন করা হয়েছে। নিজেদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া প্রয়োজন।
তিনি বলেন, বিদেশি অপসংস্কৃতির প্রভাব থেকে তরুণ প্রজন্মকে দূরে রেখে নিজস্ব সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি আরও বলেন, দেশের যুব সমাজের একটি অংশ মাদকের ভয়াবহতার মধ্যে জড়িয়ে পড়ছে। তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে শারীরিক পরিশ্রম ও খেলাধুলার প্রতি উৎসাহিত করতে হবে। খেলাধুলা ও সুস্থ বিনোদনের পরিবেশ তৈরি হলে তরুণরা ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ত করার সুযোগ পাবে।
ফাইনালে বিজয়ী যারা
ফাইনাল প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে বিজয় নিশান খাদলী, উল্লাপাড়া। আর দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে কৈবর্ত গাতী, নিউ একতা এক্সপ্রেস, উল্লাপাড়া।
উপস্থিত ছিলেন যারা
নৌকা বাইচ উৎসবে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উল্লাপাড়া উপজেলা জামায়াতের আমীর ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক শাহজাহান আলী, বেলকুচি উপজেলা জামায়াতের আমীর আরিফুল ইসলাম সোহেল, উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমীর আব্দুস সামাদ মিয়া, উপজেলা জামায়াতের দপ্তর সম্পাদক আব্দুল বারী, উপজেলা যুব বিভাগের সভাপতি আতাউর রহমান, সাধারণ সম্পাদক এসএম আল আমীন হোসেন, সলপ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শহিদুল ইসলাম, বড়হর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মাওলানা বুলবুল আহমাদ এবং দুর্গানগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আব্দুল মমিন।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) করতোয়া নদীর সোনতলা এলাকায় তিন দিনব্যাপী এ নৌকা বাইচ উৎসবের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনের দিন থেকেই নদীর দুই পাড়ে দর্শনার্থীদের ব্যাপক সমাগম ঘটে। ফাইনাল ঘিরে শনিবার সেই জনসমাগম রূপ নেয় বিশাল উৎসবে।
