জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের জন্য আসবাবপত্র সরবরাহের আগেই প্রায় ৪ কোটি টাকা বিল পরিশোধের অভিযোগ ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে গণপূর্ত অধিদপ্তর। প্রাথমিক তদন্তে কার্যাদেশ দেওয়ার মাত্র দুই দিনের মাথায় ২ কোটি ৬৫ লাখ টাকা পরিশোধের তথ্য উঠে এসেছে, যা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে সরকারি অর্থ ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে।
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন গণপূর্ত কাঠের কারখানা বিভাগের তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী, বর্তমানে উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণ প্রকল্পে কর্মরত মো. আইয়ুব আলী। অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের যোগসাজশে ২০২১–২২ অর্থবছরে ফার্নিচার সরবরাহ ছাড়াই বিল পরিশোধ করা হয়।
সূত্র জানায়, প্রথম ধাপে ৯৯ লাখ ৬৩ হাজার টাকার আসবাবপত্র ক্রয়ের কার্যাদেশ দেওয়া হয় ১৯ জুন ২০২২, অথচ ২২ জুনই পুরো বিল পরিশোধ করা হয়। একইভাবে দ্বিতীয় ধাপে ১ কোটি ৬৫ লাখ ৭২ হাজার টাকার কার্যাদেশ দেওয়ার পরদিনই বিল পরিশোধ করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
অভিযোগ অনুযায়ী, সোফা, টেবিল, চেয়ার, কম্পিউটার টেবিল ও স্টিলের আলমারিসহ মোট ১,৫৮০টি আসবাবপত্রের বিপরীতে প্রায় ৪ কোটি টাকা পরিশোধ করা হলেও নির্ধারিত সময়ে সেগুলো সরবরাহ করা হয়নি।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে হওয়া প্রাথমিক তদন্তে কিছু অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে একই অর্থবছরে বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (বিপিএসসি) জন্য নির্ধারিত ব্র্যান্ডের পরিবর্তে নিম্নমানের আসবাবপত্রে অন্য প্রতিষ্ঠানের স্টিকার লাগিয়ে সরবরাহের অভিযোগও সামনে আসে। পরে অভিযোগের পর সেগুলো পরিবর্তন করা হয়েছে বলে তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।
এছাড়া দেশের ৩৭টি সার্কিট হাউস সম্প্রসারণ প্রকল্পে আসবাবপত্র ক্রয়েও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে, যা নিয়েও বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজেদুল ইসলাম বলেন, ঠিকাদারের জামানতের অর্থ ব্যবহার করে কিছু আসবাবপত্র সরবরাহের মাধ্যমে বিষয়টির সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আইয়ুব আলীর সঙ্গে একাধিকবার ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে পূর্বে প্রকাশিত প্রতিবেদনে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজেদুল ইসলামকে ঘিরেও টেন্ডার ব্যবস্থাপনা, বদলি, প্রকল্প নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব খাটানোর নানা অভিযোগ উঠে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বিস্তারিত বক্তব্য এই প্রতিবেদনের জন্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, প্রতিবেদনে উল্লিখিত সব অভিযোগ তদন্তাধীন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত নয়। তাদের বক্তব্য বা নতুন তথ্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।
তবে ইতোপূর্বে পোস্টিং অর্ডার ঠেকাতে ৩ কোটি টাকার ডিল, নিপুণ রায় চৌধুরীর সঙ্গে পরকীয়া, সাবেক প্রতিমন্ত্রীর প্রভাব খাটিয়ে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাড়িয়ে কমিশন বানিজ্যসহ বিস্তারিত থাকছে পরবর্তী প্রতিবেদনে। চলবে………
