শনিবার, ২৭শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী মহাসড়ক সংস্কারে অনিয়মের অভিযোগ, কয়েক দিনের মাথায় উঠে গেল পিচ

এস এম বাদল
জুন ২৬, ২০২৬ ৯:০৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

কোটি টাকার সংস্কার—তবু টেকেনি সড়ক, প্রশ্নের মুখে কাজের মান ও তদারকিতে রয়েছে ঘাটতি। প্রতীকী ছবি

সরকারি অর্থে সংস্কার করা হয়েছিল কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়ক। উদ্দেশ্য ছিল নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করা। কিন্তু সংস্কার শেষ হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে উঠে গেছে পিচ ও পাথর, তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, দুর্বল তদারকি এবং অনিয়মের কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যদিও সড়ক ও জনপথ বিভাগ বলছে, অতিরিক্ত ভারী যানবাহনের চাপ এবং নরম মাটির কারণেই বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সড়কের এসব অংশ।

কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়ক জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত সড়ক। প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী এবং পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল করে এই পথ দিয়ে। অথচ সম্প্রতি সম্পন্ন হওয়া সংস্কার কাজের কয়েক দিনের মধ্যেই বিভিন্ন স্থানে উঠে যেতে শুরু করেছে পিচ ও পাথর। ফলে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে সংস্কার কাজের গুণগত মান, তদারকি এবং সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহারের বিষয়ে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের বিভিন্ন অংশে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও পিচ উঠে নিচের ইট বেরিয়ে এসেছে, আবার কোথাও রাস্তা দেবে গিয়ে তৈরি হয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা। বিশেষ করে কুমারখালী বাসস্ট্যান্ড এলাকা এবং সৈয়দ মাসুদ রুমী সেতু সংলগ্ন অংশে একাধিকবার একই ধরনের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা স্থানীয়দের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং কার্যকর তদারকির অভাবের কারণেই সরকারের অর্থে করা সংস্কার কাজ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। তারা এই প্রকল্পের কাজের মান, ব্যয় এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

সড়কের এমন বেহাল অবস্থায় প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন বাস, ট্রাক, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালক ও সাধারণ যাত্রীরা। স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে, যা জননিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।

এই পরিস্থিতির প্রতিবাদে স্থানীয় বাসিন্দা এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীরা কয়েক দফা বিক্ষোভ ও মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন। তাদের দাবি, অনিয়মের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে এবং টেকসই ও মানসম্মতভাবে সড়কটি পুনর্নির্মাণ করতে হবে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের বক্তব্য ভিন্ন। বিভাগের দাবি, অতিরিক্ত ভারী যানবাহনের চাপ এবং সড়কের নিচের নরম মাটির কারণেই একই স্থানে বারবার ক্ষতির সৃষ্টি হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, সমস্যার স্থায়ী সমাধানে প্রয়োজন প্রকৌশলগত ব্যবস্থা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।

কয়েক দফা সংস্কারের পরও যদি অল্প সময়ের ব্যবধানে একই সড়ক আবারও ভেঙে পড়ে, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই জনমনে প্রশ্ন ওঠে—সমস্যা কি শুধুই ভারী যানবাহনের, নাকি সংস্কার কাজের মান ও তদারকিতেও রয়েছে ঘাটতি? স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ এবং কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে এই গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
সারাবাংলা সর্বশেষ