রবিবার, ১০ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৭শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

গেটে সাংবাদিক ‘অবরুদ্ধ’, প্রধান প্রকৌশলীর অনুমতি ছাড়া প্রবেশ নিষেধ! গণপূর্তে ‘নিজস্ব শাসনব্যবস্থা’ চালুর অভিযোগে তুমুল সমালোচনায় ড. আবু নাসের চৌধুরী

নিজস্ব প্রতিবেদক
মে ১০, ২০২৬ ৩:৫৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

গণপূর্ত অধিদপ্তর যেন এখন আর সরকারি অফিস নয়, বরং এক ‘নিয়ন্ত্রিত দুর্গ’। অভিযোগ উঠেছে, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ড. আবু নাসের চৌধুরীর নির্দেশ ছাড়া অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রবেশ কার্যত নিষিদ্ধ। ক্ষমতার অপব্যবহার, টেন্ডার বাণিজ্য, কমিশন সিন্ডিকেট এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে তাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সাবেক আলোচিত প্রধান প্রকৌশলী মোঃ হাফিজুর রহমান মুন্সী ওরফে টিপু মুন্সির ঘনিষ্ঠ আত্মীয় হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই প্রভাব খাটিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল রয়েছেন আবু নাসের চৌধুরী।

সম্প্রতি ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল-২ এ মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে পদায়ন বাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রায় ১০ কোটি টাকার বিনিময়ে এই পদ নিশ্চিত করা হয়েছে।

তবে এর আগে বগুড়া গণপূর্ত সার্কেলে দায়িত্ব পালনকালে ব্যাপক অনিয়ম, টেন্ডার কারসাজি এবং কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বিশেষ করে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ বরাদ্দ ও এপিপিভুক্ত কাজ এলটিএম পদ্ধতির পরিবর্তে ওটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বানের অনুমোদন দিয়ে বড় ধরনের কমিশন বাণিজ্য হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

একাধিক ঠিকাদারের অভিযোগ, বিভিন্ন প্রকল্প পাইয়ে দেওয়ার নামে ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন আদায় করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, চলমান উন্নয়ন প্রকল্পে ভেরিয়েশন সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামেও বিপুল অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বগুড়ায় কর্মরত থাকলেও সপ্তাহে দুই দিনের বেশি অফিস করতেন না তিনি। বাকি সময় ঢাকায় অবস্থান করে তদবির, পদ বাণিজ্য এবং ‘অদৃশ্য নিয়ন্ত্রণ’ বজায় রাখতেই ব্যস্ত থাকতেন। বগুড়া গণপূর্ত সার্কেলের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করলেই তার অনিয়মিত উপস্থিতির প্রমাণ মিলবে বলেও দাবি করা হয়েছে।
এদিকে তার বিপুল সম্পদের তথ্য নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার আই ব্লকে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, মোহাম্মদপুরে আরেকটি ফ্ল্যাট, বারিধারা ও গুলশান-২ এলাকায় একাধিক ফ্ল্যাট এবং গাজীপুরে প্রায় ২০ একর জমির মালিক তিনি। এছাড়া নামে-বেনামে বিপুল ব্যাংক হিসাব ও অঘোষিত সম্পদের অভিযোগও রয়েছে।
তবে সবচেয়ে বেশি সমালোচনার জন্ম দিয়েছে সাংবাদিক প্রবেশে অস্বাভাবিক কড়াকড়ি। অভিযোগ রয়েছে, গণপূর্ত অধিদপ্তরে সাংবাদিকদের জন্য আলাদা খাতা রাখা হয়েছে। সেখানে নাম, পত্রিকার পরিচয়, আগমনের কারণ, কার সঙ্গে দেখা করবেন—এসব বিস্তারিত লিখে দিতে হয়। এমনকি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়া ভেতরে প্রবেশও করতে দেওয়া হয় না।
ভুক্তভোগী এক সাংবাদিক জানান, এক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর আমন্ত্রণে অফিসে গেলেও গেটে তাকে আটকে দেওয়া হয়। গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য ভেতরে ঢুকতেই শুরু হয় জিজ্ঞাসাবাদ। পরে নিরাপত্তাকর্মীরা জানান, ড. আবু নাসের চৌধুরীর নির্দেশ ছাড়া সাংবাদিকদের প্রবেশের অনুমতি নেই।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মনে হচ্ছিল সরকারি অফিসে নয়, কোনো গোপন সামরিক স্থাপনায় ঢুকতে গেছি। জনগণের টাকায় পরিচালিত একটি সরকারি দপ্তরে সাংবাদিকদের প্রবেশে এমন নজরদারি কেন? ভয়টা কোথায়?

তিনি আরও বলেন, শেষ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীকে ফোন দেওয়ার পর আচরণ কিছুটা নরম হয়। এরপর নাম এন্ট্রি, স্বাক্ষর ও ভিজিটর কার্ড দিয়ে ঢুকতে দেওয়া হয়। পুরো বিষয়টি ছিল অপমানজনক এবং প্রশ্নবিদ্ধ।

সংশ্লিষ্ট মহলের প্রশ্ন, সরকারি দপ্তরে সাংবাদিক প্রবেশে এমন কড়াকড়ির পেছনে কী উদ্দেশ্য কাজ করছে? দুর্নীতি, টেন্ডার সিন্ডিকেট ও অনিয়ম আড়াল করতেই কি এই ‘নিজস্ব নিয়মে’ পরিচালিত হচ্ছে গণপূর্ত?

এ বিষয়ে ড. আবু নাসের চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিজেই গণপূর্তে ঢোকার নিয়ম তৈরি করেছি। সাংবাদিকদের প্রবেশে এত কড়াকড়ি আরোপের কারণ জানতে চাইলে তিনি ধমকের সুরে কথা বলে ফোন কেটে দেন।
সংবিধানের ২১/২ ধারায় বলা আছে, রাষ্ট্রের সকল স্থাবর অস্থাবর সম্পদের মালিক প্রজাতন্ত্র এবং সকল আমলা রাষ্ট্রীয় কর্মচারী। তবে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হয়ে রাষ্ট্রের সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন। এটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

অভিযোগের পাহাড়, প্রভাবের বলয় আর সাংবাদিকদের ওপর অঘোষিত নিয়ন্ত্রণ—সব মিলিয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরে এখন যেন তৈরি হয়েছে এক নতুন ‘দুর্গতন্ত্র’ যার কেন্দ্রবিন্দুতে আলোচিত নাম ড. আবু নাসের চৌধুরী।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
বিশেষ খবর সর্বশেষ