বিএনপির মহাসচিব ও এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (ফাইল ফটো)
বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকারে দায়িত্ব নেওয়ার পর সর্বত্র অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির চিত্রই চোখে পড়ছে, যা দেশের অগ্রযাত্রার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শনিবার দুপুরে রাজধানীর শের-ই বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, দীর্ঘ ফ্যাসিস্টবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে নতুনভাবে বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। জুলাই সনদ ও সংবিধান নিয়ে নানা আলোচনা-বিতর্ক থাকলেও সেগুলোকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার না করার আহ্বান জানান তিনি।
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান-এর ওপর গবেষণার জন্য একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা প্রয়োজন। ইতোমধ্যে জিয়া পরিষদের মাধ্যমে কিছু গবেষণামূলক বই প্রকাশ করা হয়েছে, তবে এ ক্ষেত্রে আরও গভীর কাজ প্রত্যাশা করেন তিনি।
তিনি অভিযোগ করেন, দেশে এমন একটি সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে যেখানে তদবির ছাড়া কাজ হয় না। গত ১৫ বছরে এই প্রবণতা আরও বেড়েছে। অনেকেই ভাইস চ্যান্সেলর হওয়ার জন্য তদবির করছেন, যা দুঃখজনক এবং এটি পুরো ব্যবস্থার দুর্বলতা নির্দেশ করে। তার মতে, মেধা ও বুদ্ধিমত্তা ছাড়া প্রকৃত অগ্রগতি সম্ভব নয়।
সংবিধান ও সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জুলাই সনদের প্রতিটি ধাপে বিএনপি যুক্ত ছিল এবং কিছু বিষয়ে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়েও স্বাক্ষর করেছে। তবে উচ্চকক্ষ গঠন বা সংবিধান সংস্কার পরিষদের কিছু প্রস্তাবে দলটি একমত নয়। সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সংসদের মাধ্যমেই হওয়া উচিত বলে মত দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপিকে সংস্কারবিরোধী হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যা বিভ্রান্তিকর। বরং বিএনপিই দেশে সংস্কারের পথপ্রদর্শক, যার সূচনা করেছিলেন জিয়াউর রহমান।
কিছু মহল পরিকল্পিতভাবে ভুল তথ্য ছড়িয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
শেষে তিনি ছাত্র রাজনীতিতে মেধাবীদের সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, সঠিক পথে পরিচালিত না হলে ছাত্র রাজনীতি ভবিষ্যতেও ক্ষতির কারণ হতে পারে।
