সোমবার, ২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাইকমিশনার হচ্ছেন দীনেশ ত্রিবেদী? কূটনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা

অনলাইন ডেস্ক
এপ্রিল ১৯, ২০২৬ ৯:৫৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

দীনেশ ত্রিবেদী

বাংলাদেশে ভারতের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছে দীনেশ ত্রিবেদী-এর নাম। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর দল তৃণমূল কংগ্রেস-এর সাবেক এই সাংসদকে ঢাকায় ভারতের নতুন মুখ হিসেবে পাঠানোর পরিকল্পনা চলছে বলে ভারতীয় কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।

বর্তমান হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা-কে ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়ন-এ ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তার স্থলাভিষিক্ত হতে পারেন ৭৫ বছর বয়সী অভিজ্ঞ এই রাজনীতিক। যদিও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও কিছু ঘোষণা দেয়নি, তবুও দেশটির বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে জোরালো খবর প্রকাশিত হয়েছে।

সূত্রগুলো বলছে, পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন শেষে দীনেশ ত্রিবেদীকে ঢাকায় পাঠানোর সম্ভাবনা বেশি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-এর সঙ্গে তার সুসম্পর্ক, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর দখল—এই নিয়োগের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

গুজরাটি ব্যবসায়ী পরিবারে জন্ম হলেও দীনেশ ত্রিবেদী সাবলীলভাবে বাংলা বলতে পারেন, যা বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনে তাকে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তবে ভারতের কূটনৈতিক রীতিতে সাধারণত ইন্ডিয়ান ফরেন সার্ভিস (আইএফএস)-এর পেশাদার কূটনীতিকদেরই এমন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। সে দিক থেকে দীনেশ ত্রিবেদীর সম্ভাব্য নিয়োগকে একটি ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রাজনৈতিক জীবনে দীনেশ ত্রিবেদীর পথচলা বেশ বর্ণাঢ্য। আশির দশকে কংগ্রেস দিয়ে শুরু, পরে জনতা দলে যোগদান, ১৯৯০ সালে প্রথমবার রাজ্যসভার সদস্য নির্বাচিত হওয়া—এরপর তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়ে আবারও রাজ্যসভায় আসন পান। ২০০৯ সালে প্রথমবার লোকসভা নির্বাচনে অংশ নেন।

ইউপিএ সরকার-এর আমলে তিনি রেলমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও সামলান।

২০১৯ সালে পশ্চিমবঙ্গের বারাকপুর আসনে অর্জুন সিং-এর কাছে পরাজয়ের পর তৃণমূল তাকে রাজ্যসভায় পাঠায়। তবে দলের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটে, এবং শেষ পর্যন্ত ২০২১ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি তিনি তৃণমূল কংগ্রেস ত্যাগ করেন। এরপর ৬ মার্চ তিনি ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-তে যোগ দেন।

সব মিলিয়ে, দীনেশ ত্রিবেদীর সম্ভাব্য এই নিয়োগ দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন দেখার বিষয়, ভারতের সরকার কবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয় এবং ঢাকায় কূটনৈতিক সমীকরণে কী পরিবর্তন আসে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।