শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

“বিসিএস ছাড়াই ৬ষ্ঠ গ্রেডে নিয়োগ, আদালতের আদেশ উপেক্ষা, দুই প্রতিষ্ঠানের বেতন উত্তোলন — গণপূর্তে জাহাঙ্গীর আলম সিন্ডিকেটের ‘মেগা দুর্নীতির’ বিস্ফোরক অভিযোগ”

তাবাসসুম স্নেহা
মে ১৫, ২০২৬ ২:৫০ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

স্বৈরাচারী আওয়ামী শাসনামলে সরকারি চাকরিতে দলীয়করণ, নিয়োগ বাণিজ্য ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অসংখ্য অভিযোগের ভিড়ে এবার সামনে এসেছে গণপূর্ত অধিদপ্তরের এক চাঞ্চল্যকর নিয়োগ কেলেঙ্কারি। অভিযোগ উঠেছে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিসিএস পরীক্ষাকে পাশ কাটিয়ে ছাত্রলীগপন্থী কয়েকজনকে সরাসরি ৬ষ্ঠ গ্রেডে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। আর সেই বিতর্কিত নিয়োগপ্রাপ্তদের অন্যতম মোঃ জাহাঙ্গীর আলম এখন শত শত কোটি টাকার প্রকল্প নিয়ন্ত্রণকারী প্রভাবশালী নির্বাহী প্রকৌশলী।

সূত্র বলছে, যেখানে গণপূর্ত অধিদপ্তরে সাধারণত ৯ম গ্রেডে বিসিএসের মাধ্যমে সহকারী প্রকৌশলী নিয়োগের বিধান রয়েছে, সেখানে আওয়ামীপন্থী একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট পিএসসিকে ব্যবহার করে মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, সমীরণ মিস্ত্রী, জিয়াউর রহমান, মোঃ আবু তালেবসহ কয়েকজনকে সরাসরি ৬ষ্ঠ গ্রেডে নিয়োগের ব্যবস্থা করে। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক প্রধান প্রকৌশলী কবির আহমেদ ভূইয়া, শেখ সেলিম ও শেখ হেলালের তদবিরে বিশেষ সুপারিশ পাঠানো হয় পিএসসিতে।

সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগটি আরও বিস্ফোরক।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নাকি সরাসরি পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যান এটিএম আহমেদুল হুদাকে ফোন করে নির্দেশ দেন—কোনো লিখিত বা প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ছাড়াই শুধুমাত্র ভাইভার মাধ্যমে নির্ধারিত তালিকার ১১ জনকে নিয়োগ দিতে। পরে নামমাত্র ভাইভা নিয়েই সেই নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয় বলে অভিযোগ।

এই নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। তারা হাইকোর্টে রিট দায়ের করলে আদালত ১৭টি পদ বিসিএস কর্মকর্তাদের ডিঙিয়ে তাদের সিনিয়রিটিও প্রদান করা হয়।

স্থগিতাদেশ চলাকালীন ‘ব্যাকডেট নাটক’ কোটি টাকার বেতন উত্তোলনের অভিযোগ

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে আদালতের স্থগিতাদেশ চলাকালীন সময়কে ঘিরে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় ১১ মাস ব্যাকডেট দেখিয়ে যোগদানপত্র তৈরি করা হয় এবং চাকরিতে উপস্থিত না থেকেও সরকারি কোষাগার থেকে বকেয়া বেতন উত্তোলন করা হয়।

সূত্রের দাবি, ওই সময় মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বিআইডাব্লিউটিএতে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং সেখান থেকে নিয়মিত সরকারি বেতন গ্রহণ করছিলেন। একই সময়ে গণপূর্ত অধিদপ্তর থেকেও তিনি বেতন উত্তোলন করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অর্থাৎ একই সময়ে দুই সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে বেতন গ্রহণের মাধ্যমে সরকারি চাকরি বিধিমালা ও আর্থিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে।

শুধু জাহাঙ্গীর আলমই নন—মোঃ আইয়ুব আলী মেরিন একাডেমিতে এবং মোঃ নাফিজ আহমেদ রাজশাহীতে সরকারি চাকরিতে কর্মরত ছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। অন্য কয়েকজন বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেও পরে ব্যাকডেটে সরকারি চাকরিতে যোগদানের সুবিধা নেন বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

অভিযোগ রয়েছে, এসব অনিয়মের পেছনে সাবেক সচিব শহীদ উল্লাহ খন্দকার, সাবেক এমপি শেখ সেলিম, শেখ হেলাল এবং সাবেক প্রধান প্রকৌশলী কবির আহমেদ ভূইয়ার প্রত্যক্ষ মদদ ছিল।

‘উড ডিভিশনে’ ৩০০ কোটি টাকার কমিশন বাণিজ্য!

সম্প্রতি গণপূর্ত অধিদপ্তরের “পি পি ডব্লিউ ডি উড ডিভিশন” ঘিরেও উঠেছে নতুন বিস্ফোরক অভিযোগ। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, প্রায় ৩০০ কোটি টাকার কাঠ ও ফার্নিচার ক্রয় প্রকল্পকে কেন্দ্র করে নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম একটি বিশেষ সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ডিপিপির আওতায় আসা বিপুল অংকের প্রকল্পকে দুই ভাগে বিভক্ত করে কমিশন বাণিজ্যের পথ তৈরি করা হয়। আর এই পুরো প্রক্রিয়ায় এক প্রভাবশালী তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোটা অংকের ঘুষের বিনিময়ে বিশেষ পদায়ন নিশ্চিত করেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

সূত্র আরও জানায়, প্রধান প্রকৌশলীর ভাই “মামুন”-এর নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন ঠিকাদারের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টা চলছে। আর পুরো সিন্ডিকেট পরিচালনায় সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ জাহাঙ্গীর আলম।
অভিযোগ রয়েছে, হাতিল, পশ ফার্নিচার, রিগেল ফার্নিচার, আকতার ফার্নিচার ও ডট ফার্নিচারসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ বণ্টন করা হচ্ছে এবং নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

তদন্ত চললেও কীভাবে টেন্ডারে অংশ নিচ্ছেন জাহাঙ্গীর?

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে—গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, গণপূর্ত অধিদপ্তর এবং দুর্নীতি দমন কমিশনে পৃথক তদন্ত চলমান থাকার পরও কীভাবে মোঃ জাহাঙ্গীর আলম প্রায় দেড়শ কোটি টাকার টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন?

এ বিষয়ে সংস্থাপন শাখার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সরোয়ার জাহান বিপ্লব বলেন, রিপোর্টটি আগেই দেওয়ার কথা ছিল। কেন দেওয়া হয়নি জানি না। তবে আমি আবার চিঠি দেব দ্রুত রিপোর্ট দেওয়ার জন্য।

সংশ্লিষ্ট মহলের প্রশ্ন—ক্ষমতার ছত্রছায়া ছাড়া কি একজন বিতর্কিত কর্মকর্তা বছরের পর বছর ধরে এত বড় বড় প্রকল্প নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন? নাকি গণপূর্ত অধিদপ্তরের ভেতরে এখনও সক্রিয় রয়েছে আওয়ামী আমলের সেই প্রভাবশালী দুর্নীতি সিন্ডিকেট?

এখন জনমনে একটাই প্রত্যাশা—দুর্নীতি দমন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থাগুলো অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্য উদঘাটন করবে এবং প্রমাণ মিললে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
বিশেষ খবর সর্বশেষ