বুলেট বৈরাগী
নিঃশব্দ রাত, ফাঁকা মহাসড়ক আর এক রহস্যময় যাত্রার শেষ প্রান্তে রক্তাক্ত এক লাশ—কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যাকাণ্ড যেন এক শিহরণ জাগানো গল্পের মতোই ধীরে ধীরে উন্মোচিত হচ্ছে। অবশেষে এই চাঞ্চল্যকর হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
রোববার রাতে র্যাব জানায়, কুমিল্লায় সংঘটিত এই ‘ক্লুলেস’ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং ঘটনার নেপথ্যের সত্য উন্মোচন নিয়ে সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হবে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ভাষ্যে, ঘটনাটি যেন এক অদ্ভুত অন্ধকার নাটক। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী বাসে করে ফিরছিলেন বুলেট বৈরাগী। গভীর রাতে হাইওয়েতে নেমে নগরীর টমছমব্রিজ এলাকায় পৌঁছে শেষবারের মতো পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। তখন রাত ২টা ২৫ মিনিট—একটি স্বাভাবিক মুহূর্ত, যার পরই নেমে আসে অজানা অন্ধকার।
এরপরই যেন সবকিছু বদলে যায়। তার মোবাইল ফোন চলে যায় দুর্বৃত্তদের নিয়ন্ত্রণে। সময় গড়ায়, নীরবতা বাড়ে। ভোর সাড়ে ৫টায় হঠাৎ আবার সচল হয় ফোন—লোকেশন দেখায় চৌয়ারা এলাকা। কিন্তু ততক্ষণে সবকিছুই অনেক দেরি হয়ে গেছে…
র্যাবের কুমিল্লা ক্যাম্পের অধিনায়ক মেজর সাদমান ইবনে আলম বলেন, কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট হত্যার রহস্য বের করা হয়েছে। জড়িতদের বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে প্রেস ব্রিফিংয়ে।
নিহত বুলেট বৈরাগী—গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার সন্তান। ৪১তম বিসিএস নন-ক্যাডার হিসেবে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা পদে যোগ দিয়েছিলেন দেড় বছর আগে। কর্মরত ছিলেন কুমিল্লার বিবির বাজার স্থল বন্দরে। পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন রাজাগঞ্জ পানপট্টি এলাকার একটি ভাড়া বাসায়—স্বপ্ন আর দায়িত্বে ভরা এক সাধারণ জীবনের মানুষ।
কিন্তু সেই জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটে এক নির্মম ভোরে। শনিবার সকালে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার কোটবাড়ি এলাকায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে আইরিশ হোটেলের নিকটবর্তী সড়ক থেকে উদ্ধার করা হয় তার রক্তাক্ত নিথর দেহ।
এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় নিহতের মা নীলিমা বৈরাগী বাদী হয়ে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
একটি ফোনকল, কয়েক ঘণ্টার অন্ধকার, আর তারপর মৃত্যু—এই রহস্যের প্রতিটি স্তর এখন উন্মোচনের অপেক্ষায়। সোমবারের প্রেস ব্রিফিং হয়তো জানাবে—এই রাতের গল্পে কে ছিল ঘাতক, আর কেনই বা থেমে গেল বুলেট বৈরাগীর জীবনযাত্রা।
