ফাইল ছবি
রাজধানীর পুরান ঢাকার লালবাগ যেন আবারও কেঁপে উঠল গুলির শব্দে। রাতের ব্যস্ততা আর মানুষের চলাচলের মাঝেই শহীদ নগরের সরু গলিতে মুহূর্তেই তৈরি হয় আতঙ্ক, ছড়িয়ে পড়ে চিৎকার আর দৌড়ঝাঁপ। দুর্বৃত্তের গুলিতে গুরুতর আহত হয়েছেন রাফি হোসাইন নামে এক যুবক। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে চিকিৎসাধীন।
বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৮টার দিকে শহীদ নগরের তিন নম্বর গলিতে ঘটে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কয়েকজন যুবক হঠাৎ এলাকায় এসে একজনকে খুঁজতে থাকে। তাদের কণ্ঠে ছিল উত্তেজনা, আচরণে ছিল ভয়ংকর আগ্রাসন। কিছুক্ষণ পরই ভেসে আসে গুলির বিকট শব্দ।
আহতের বন্ধু সজিব হোসেন জানান, স্থানীয় ইমন, শাহাবুদ্দিন, মিন্টু ও রেজাউলসহ সাত–আটজন যুবক প্রথমে তাকে ঘিরে ধরে জিজ্ঞেস করে, শাহিন কোথায়? তিনি শাহিনকে চেনেন না বললে তাকে মারধর করা হয়। পরে রাফিকে ঘটনাস্থলে ডেকে আনা হলে কোনো কথা কাটাকাটির সুযোগ না দিয়েই তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে হামলাকারীরা। গুলি গিয়ে লাগে তার ডান পাঁজরে। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন রাফি।
স্থানীয়দের সহায়তায় দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে স্বজনদের আহাজারি আর উৎকণ্ঠায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় রাফিকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তার জরুরি অস্ত্রোপচার চলছে এবং চিকিৎসকরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন।
লালবাগ থানার ওসি ইয়াসিন আলী বলেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। তবে পুলিশ গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছে। জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্তদের অনেকেই এলাকায় কিশোর গ্যাং ও মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত হিসেবে পরিচিত। এ ঘটনায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে পুরো এলাকায়।
আহত রাফির বাড়ি লালবাগের শহীদ নগর এলাকায়। তার বাবা তাইজউদ্দিন আহমেদ। পরিবারের সদস্যরা জানান, রাফি অনলাইনে গেঞ্জির ব্যবসা করতেন। কারও সঙ্গে তার কোনো বিরোধ ছিল কি না, সেটিও নিশ্চিত করে বলতে পারেননি তারা।
রাতের সেই রহস্যঘেরা হামলার পেছনে কী ছিল— পূর্বশত্রুতা, গ্যাং আধিপত্য নাকি অন্য কোনো অন্ধকার দ্বন্দ্ব— এখন সেই উত্তর খুঁজছে পুলিশ।
