বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের তরুণ সমাজের স্বপ্ন, শিক্ষা আর ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের বাস্তবতা নিয়ে নতুন আশার আলো দেখালেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা Mahdi Amin। তাঁর কণ্ঠে উঠে এলো এমন এক বাংলাদেশের স্বপ্ন, যেখানে শুধু সনদ নয়—দক্ষতা, সৃজনশীলতা আর কর্মক্ষমতাই হবে সফলতার আসল পরিচয়।
বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে মাহদী আমিন বলেন, সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার এখন কর্মসংস্থান সৃষ্টি। তবে বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে চাকরির বাজারের বড় ধরনের দূরত্ব তৈরি হয়েছে, যা তরুণদের হতাশার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, অনার্স শেষ করেও অনেকের চাকরি হচ্ছে না, এমনকি পিএইচডি ডিগ্রি নিয়েও কেউ কেউ কর্মসংস্থানের বাইরে রয়ে যাচ্ছেন। এর অর্থ হলো, আমাদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মধ্যে কোথাও না কোথাও গভীর ‘কনসেপচুয়াল’ সমস্যা রয়েছে।
মাহদী আমিনের মতে, আগামী দিনের বাংলাদেশ হবে দক্ষতা ও প্রযুক্তিনির্ভর। তাঁর ভাষায়, “দক্ষতা ও কারিগরি শিক্ষাই হচ্ছে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের আসল সেতুবন্ধন।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী Tarique Rahman–এর নেতৃত্বে সরকার এমন একটি ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়ার পরিকল্পনা করছে, যেখানে তরুণদের শিক্ষা হবে কর্মমুখী, বাস্তবভিত্তিক এবং সময়োপযোগী। পাঁচ বছর ও দশ বছর পর দেশের অবস্থান কোথায় হবে, সেই স্বপ্ন ও পরিকল্পনার রূপরেখা ইতোমধ্যেই সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে তুলে ধরা হয়েছে।
মাহদী আমিন বলেন, আমরা এমন এক বাংলাদেশ চাই, যেখানে তরুণদের হাতে শুধু ডিগ্রির কাগজ নয়, থাকবে আত্মবিশ্বাস, দক্ষতা আর নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার শক্তি।
অনুষ্ঠানে তিনি সরকারের চলমান বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন। কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও খাল খননের মতো প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের কাজ ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র তিন মাসের মধ্যেই বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ দৃশ্যমান হয়েছে।
পুরো বক্তব্যজুড়ে যেন ফুটে উঠেছে এক নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন—যেখানে তরুণদের হতাশা নয়, বরং দক্ষতা, উদ্ভাবন আর কর্মসংস্থানের আলোয় সাজানো হবে আগামীর পথ।
