রবিবার, ১৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কর অঞ্চল ১০-এ ‘নাজির সাম্রাজ্য’! কমিশন বাণিজ্য, বিল জালিয়াতি ও অর্থ লোপাটের অভিযোগে আলোচনায় মিরাজ ইবনে মাহবুব

নিজস্ব প্রতিবেদক
মে ১৬, ২০২৬ ৭:২৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সরকারি চাকরির আড়ালে কোটি টাকার সম্পদ? কর অঞ্চল ১০-এর নাজির শাখা ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগ। ফাইল ছবি

দেশের রাজস্ব খাতের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর কর অঞ্চল ১০-এর নাজির শাখাকে ঘিরে ভয়াবহ অনিয়ম, কমিশন বাণিজ্য ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। আর এসব অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন নাজির শাখার কর্মকর্তা মিরাজ ইবনে মাহবুব। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, সরকারি দায়িত্বকে ব্যক্তিগত আয়ের ‘সোনার খনি’তে পরিণত করে অল্প সময়েই বিপুল অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি।

অভিযোগ রয়েছে, কর আদায়, ট্রেজারি চালান সংরক্ষণ, ক্যাশ ব্যবস্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক নথিপত্র তদারকির মতো স্পর্শকাতর দায়িত্বে থেকে দীর্ঘদিন ধরে বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাৎ, কমিশন বাণিজ্য, বিল-ভাউচার জালিয়াতি এবং দাপ্তরিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে আসছেন মিরাজ ইবনে মাহবুব।

সূত্র বলছে, কর অঞ্চল ১০-এ বিভিন্ন কাজের বরাদ্দ, বিল অনুমোদন ও ফাইল ছাড় করাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। অভিযোগ অনুযায়ী, মিরাজ ইবনে মাহবুবের ঘনিষ্ঠ লোকজন ও পছন্দের ঠিকাদার ছাড়া সেখানে কোনো কাজ সহজে সম্পন্ন হয় না। কমিশনের বিনিময়ে কাজ পাইয়ে দেওয়া যেন তার নিয়মিত কর্মকাণ্ডে পরিণত হয়েছে।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ হলো—নিজ দপ্তরের এক সহকর্মীর স্ত্রীর নামে ট্রেড লাইসেন্স খুলে সেই প্রতিষ্ঠানের নামে একাধিক বিল-ভাউচার নিজেই উত্তোলন করেছেন তিনি। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, সরকারি অর্থ লোপাটের উদ্দেশ্যে গোপনে একটি আর্থিক চক্র গড়ে তোলা হয়েছে, যার মূল নিয়ন্ত্রক হিসেবে নাম এসেছে মিরাজ ইবনে মাহবুবের।

এছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ফাইল টেম্পার করে সরকারের বিপুল রাজস্ব ক্ষতির মাধ্যমেও অবৈধভাবে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অল্প সময়েই তিনি কোটিপতি বনে গেছেন বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কর অঞ্চল ১০-এর নাজির শাখায় গেলে অনেকের কাছেই মনে হয়, মিরাজ ইবনে মাহবুব যেন কোনো প্রথম শ্রেণির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। নিজের দপ্তরকে বিলাসবহুলভাবে সাজিয়ে তুলেছেন তিনি। অফিসজুড়ে তার প্রভাব, ক্ষমতার দাপট এবং নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চলছে নানা আলোচনা।

অভিযোগ রয়েছে, অতীতে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করেও প্রভাব বিস্তার করেছেন তিনি। এমনকি রাজস্ব খাতসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আন্দোলনে অর্থ লগ্নির অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। বিশেষ করে আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চলা টানা প্রায় চল্লিশ দিনের আন্দোলনে প্রতিদিন গাড়িভর্তি লোক নিয়ে সেগুনবাগিচা থেকে অংশ নিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ওই আন্দোলনে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও রহস্যজনক কারণে এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন মিরাজ ইবনে মাহবুব।

রাজস্ব বিভাগের একাধিক সূত্রের দাবি, কর অঞ্চল ১০-এ কোনো কাজ করতে গেলেই অর্থ বা কমিশন ছাড়া ফাইল নড়ে না। সাধারণ করদাতা থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের কাছ থেকেও নিয়মিত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থে গাজীপুরসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় আলিশান বাড়ি নির্মাণ এবং একাধিক জমি কেনার অভিযোগও উঠেছে। সরকারি চাকরির আড়ালে কীভাবে বিপুল সম্পদের মালিক হলেন মিরাজ ইবনে মাহবুব—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কর অঞ্চল ১০-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজস্ব দপ্তরে এ ধরনের দুর্নীতি, কমিশন বাণিজ্য ও অনিয়ম চলতে থাকলে শুধু সরকারের আর্থিক ক্ষতিই নয়, দেশের কর ব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মিরাজ ইবনে মাহবুব কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। অভিযোগ সম্পর্কে জানতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য প্রকাশিত হয়নি।

এদিকে, অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
বিশেষ খবর সর্বশেষ