দীপেন দেওয়ান
সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান পদত্যাগ করেছেন। সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান–এর কাছে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতায় ভোগার কারণে মন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দীপেন দেওয়ান। ঈদের ছুটি শেষে অফিস খোলার প্রথম দিনেই তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
পদত্যাগপত্রে দীপেন দেওয়ান উল্লেখ করেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। অসুস্থতার কারণে মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা ও দায়িত্ব পালনে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের গতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থেই বর্তমান পদ থেকে অব্যাহতি নেওয়াকে তিনি প্রয়োজনীয় বলে মনে করছেন।
৬৩ বছর বয়সী দীপেন দেওয়ান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাঙ্গামাটি আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নির্বাচিত হন। নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করে তিনি আলোচনায় আসেন। প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েই মন্ত্রিসভায় জায়গা করে নেন তিনি।
রাজনীতির পাশাপাশি তাঁর পারিবারিক পরিচয়ও উল্লেখযোগ্য। তাঁর বাবা সুবিমল দেওয়ান ছিলেন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান–এর উপজাতিবিষয়ক উপদেষ্টা।
পেশাগত জীবনে বিচার বিভাগে কর্মরত থাকা দীপেন দেওয়ান ২০০৫ সালে যুগ্ম জেলা জজের চাকরি ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দেন। এরপর ধাপে ধাপে রাজনৈতিক অঙ্গনে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেন।
২০১০ সালে রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি এবং ২০১৬ সাল থেকে কেন্দ্রীয় বিএনপির সহধর্মবিষয়ক সহসম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন তিনি।
তার এই পদত্যাগে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা ও জল্পনা।
