বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার-উসকানির প্রতিবাদ, জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি ইমাম সেলিমের

এস এম বাদল
সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ ৪:৫৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে গুজব, মিথ্যাচার, অপপ্রচার, প্রকাশ্য হুমকি ও উসকানিমূলক বক্তব্যের প্রতিবাদে কুষ্টিয়ায় ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, একটি উগ্রবাদী গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে সাধারণ মানুষকে ক্ষুব্ধ ও উত্তেজিত করার চেষ্টা করছে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় কুষ্টিয়ার নিকেতনে হেযবুত তওহীদের কুষ্টিয়া জেলা শাখার উদ্যোগে এ ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন সংগঠনটির শীর্ষ নেতা ইমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম। তিনি হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে হুমকি, সহিংসতায় উসকানি, মিথ্যা অপপ্রচার এবং নারীদের বিরুদ্ধে অবমাননাকর বক্তব্য প্রদানকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। একই সঙ্গে সংগঠনের সদস্যদের সাংবিধানিক ও মানবাধিকার এবং জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

ইমাম সেলিম বলেন, ওয়াজ-মাহফিল ও মসজিদের মিম্বরের মতো পবিত্র স্থানে দাঁড়িয়ে একটি উগ্রবাদী ধর্মব্যবসায়ী শ্রেণি হেযবুত তওহীদের নামে মিথ্যাচার করে আসছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেও সাধারণ মানুষকে সংগঠনটির বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তোলার অপচেষ্টা চলছে। হেযবুত তওহীদ সম্পর্কে যারা জানেন না, তারাও এসব অপপ্রচারে প্রভাবিত হয়ে সংগঠনটির ওপর ক্ষুব্ধ হচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে হেযবুত তওহীদের এক ইমামের গ্রামের বাড়িতে অরাজকতা সৃষ্টির চক্রান্তের অংশ হিসেবে ১০ থেকে ১৫ দিন ধরে নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুর অঞ্চলের বিভিন্ন মসজিদে উসকানিমূলক বয়ান এবং প্রচারপত্র বিলি করা হয়েছে। এমনকি ঢাকার উত্তরায় সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনেও উসকানিমূলক মিছিল নিয়ে এসে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ইমাম সেলিমের অভিযোগ, সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রশাসন ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবগত করার পরও ওয়াজের নামে হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে ‘কাফের’ ফতোয়া দিয়ে সাধারণ মানুষকে উসকে দেওয়া হচ্ছে।

হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধের দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিগত ৩১ বছরে সংগঠনটির বিরুদ্ধে পাঁচ শতাধিক মামলা হয়েছে এবং এসব মামলায় আদালতে তারা বেকসুর খালাস পেয়েছে। তার দাবি, হেযবুত তওহীদ কখনো আইন অমান্য করেনি।

পাল্টা অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, যারা হেযবুত তওহীদকে নিষিদ্ধ করার দাবি তুলছেন, তাদের পরিচালিত মাদ্রাসা ও মসজিদে শিশু বলাৎকার, নির্যাতন ও মব সৃষ্টির মতো গুরুতর ঘটনার অভিযোগও সামনে এসেছে। এসব ঘটনার বিষয়ে সাধারণ মানুষের দৃষ্টি সরাতেই হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের পথ বেছে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

উসকানিমূলক প্রচারণাকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ প্রকাশ করে ইমাম সেলিম বলেন, এ ধরনের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড হেযবুত তওহীদের সদস্যদের জানমাল, বাড়িঘর ও সম্পদের নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করেছে। ২০১৬ সালে তার গ্রামের বাড়িতে হামলা চালিয়ে দুই সদস্যকে হত্যা, অগ্নিসংযোগ ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনা ঘটেছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তার আশঙ্কা, একই ধরনের সহিংসতার পরিবেশ আবারও তৈরি করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সুনাগরিক হিসেবে হেযবুত তওহীদের সদস্যদেরও সাংবিধানিক অধিকার ও মানবাধিকার রয়েছে। তাই তাদের জানমাল ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

অনুষ্ঠানের শেষপর্বে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন হেযবুত তওহীদের শীর্ষ নেতা ইমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন হেযবুত তওহীদের খুলনা বিভাগীয় সভাপতি ও আমির তানভীর আহমেদ, কুষ্টিয়া আঞ্চলিক আমির মো. জসেব উদ্দিন, খুলনা অঞ্চলের আঞ্চলিক আমির শামসুজ্জামান মিলন, কেন্দ্রীয় বাণিজ্য সম্পাদক কাজী জাহিদুল হক, কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক আইনুল হক, কুষ্টিয়া জেলা সভাপতি মো. আক্কাচ আলী, খুলনা বিভাগীয় গণমাধ্যম সম্পাদক জাহিদ মাহমুদসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।