বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মন্ত্রী-সচিব ও প্রধান প্রকৌশলীর দোহাই, গণপূর্তে নিয়াজ তানভীরের বিরুদ্ধে টেন্ডার কারসাজি ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ

আবদুর রহমান
সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ ৮:২৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের পরও গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল, বদলি আদেশ বাতিল ঘিরে প্রশ্ন—সম্পদ অর্জন নিয়েও নানা অভিযোগ। ফাইল ছবি

গণপূর্ত অধিদপ্তরের ই/এম-৪-এর নির্বাহী প্রকৌশলী নিয়াজ তানভীর আলমকে ঘিরে একের পর এক অনিয়ম, দুর্নীতি, টেন্ডার কারসাজি, কমিশন বাণিজ্য, প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহলের ঘনিষ্ঠতার পরিচয় ব্যবহার করে গণপূর্ত অধিদপ্তরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন তিনি। সেই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকল্পের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, কমিশন আদায় ও অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

গুরুতর এসব অভিযোগের পরও নিয়াজ তানভীর এখনো গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল থাকায় গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগকারীদের প্রশ্ন—কোন অদৃশ্য শক্তির প্রভাবে বারবার অভিযোগের বাইরে থেকে যাচ্ছেন তিনি? কেনই বা তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর কার্যকর তদন্ত বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা দৃশ্যমান হচ্ছে না?

অভিযোগের পাহাড়, তবুও ধরাছোঁয়ার বাইরে

অনিয়ম, দুর্নীতি, ঘুষ এবং সরকারি প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও গণপূর্ত বিভাগ ই/এম-৪ ঢাকার নির্বাহী প্রকৌশলী নিয়াজ তানভীর আলমের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

তাঁর বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকারের রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার, একজন আওয়ামী লীগ নেতাকে নিজের পিতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তার, সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম, টেন্ডার বাণিজ্য, কমিশন আদায় এবং অবৈধভাবে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, অনিয়ম ও দুর্নীতির বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ সামনে আসার পরও তিনি কখনো কার্যকর শাস্তির মুখোমুখি হননি; বরং বিভিন্ন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন। এ কারণেই তাঁর প্রভাবের উৎস এবং প্রশাসনিকভাবে তাঁকে সহযোগিতা করা ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

পিতৃপরিচয় নিয়েও বিতর্ক

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে, খুলনা সদরের ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের মিয়াপাড়া নতুন রাস্তা এলাকার তালুকদার আব্দুল খালেক ও আখতারুন নেছার ছেলে হিসেবে নিয়াজ তানভীর আলমের পরিচয় উল্লেখ করা হয়। ২০০৯ সালে ২৮তম বিসিএস ক্যাডারে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে গণপূর্ত অধিদপ্তরে যোগ দেন তিনি।

তাঁর পারিবারিক পরিচয় নিয়ে রয়েছে নানা অভিযোগ ও বিতর্ক। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক সংসদ সদস্য ও খুলনা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আওয়ামী লীগ নেতা তালুকদার আব্দুল খালেকের নাম এবং তাঁর পিতার নাম একই হওয়ায় নিয়াজ তানভীর বিভিন্ন সময় নিজেকে ওই রাজনৈতিক নেতার পুত্র হিসেবে পরিচয় দিতেন। আবার কোথাও তাঁকে ভাতিজা হিসেবেও পরিচয় দেওয়া হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব ও অনৈতিক সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যে নিজের প্রকৃত পিতৃপরিচয় গোপন করে একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার পরিচয় ব্যবহার করতেন তিনি। সেই প্রভাব কাজে লাগিয়ে বদলি বাণিজ্য, ঘুষ, দুর্নীতি, টেন্ডার বাণিজ্য ও কমিশনের মাধ্যমে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগও রয়েছে।

তবে তাঁর প্রকৃত পারিবারিক পরিচয় নিয়ে ওঠা এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

৪০৬ কোটি টাকার কারাগার প্রকল্পে তদন্তের অভিযোগ

সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, ৪০৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর ২০১৭ সালে গণপূর্ত অধিদপ্তর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।

অভিযোগ রয়েছে, ওই তদন্তে ৩৭ জন প্রকৌশলীকে দায়ী করা হয়। তাঁদের মধ্যে নিয়াজ তানভীর আলমও ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। তবে তদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন, সেখানে তাঁর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কী দায় নির্ধারণ করা হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল—এসব তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

৬৮ লিফটে ঘুষের অভিযোগ

২০১৯ সালে মতিঝিলের এজিবি কলোনি ও আজিমপুর সরকারি কলোনিতে ৬৮টি লিফট স্থাপনের ক্ষেত্রে ঘুষের বিনিময়ে অযোগ্য প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার সুপারিশ করার অভিযোগও ওঠে নিয়াজ তানভীরের বিরুদ্ধে।

এ ছাড়া গণপূর্ত ই/এম-৩-এর নির্বাহী প্রকৌশলী থাকার সময় আজিমপুর সরকারি কলোনির ভেতরে কার পার্কিং শেড নির্মাণেও ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে।

এ ঘটনায় গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (পওবিপ্র) মো. শফিকুল ইসলামকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল বলে জানা যায়। ওই তদন্ত প্রতিবেদনে নিয়াজ তানভীর আলমকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল—এমন দাবিও রয়েছে অভিযোগকারীদের।

সচিবালয়ে নিম্নমানের মালামাল সরবরাহের অভিযোগ

ই/এম-৩ থেকে বদলি হয়ে সচিবালয়ে দায়িত্ব পালনকালে তাঁর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। সচিবালয়ে নিম্নমানের ইলেকট্রনিক্স পণ্য ও সামগ্রী সরবরাহের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

সচিবালয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে নিম্নমানের মালামালের কারণে আগুনের সূত্রপাতের বিষয়টি উঠে আসে এবং সেখানেও নিয়াজ তানভীরের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ ওঠে বলে দাবি করা হয়েছে।

তবে অগ্নিকাণ্ডের সঙ্গে তাঁর সরাসরি দায় বা সংশ্লিষ্টতা কতটা ছিল, তা নির্ধারণে মূল তদন্ত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করা প্রয়োজন।

বঙ্গভবনের দায়িত্বেও অনিয়মের অভিযোগ

২০০৯ সালে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগদানের পর আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব কাজে লাগিয়ে দ্রুত উপবিভাগীয় প্রকৌশলী এবং নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে পদোন্নতি পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

বঙ্গভবনে উপবিভাগীয় প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত থাকাকালেও তাঁর বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। বিভিন্ন প্রকল্প থেকে অর্থ আত্মসাৎ এবং অর্থের বিনিময়ে যোগ্য প্রতিষ্ঠানকে বাদ দিয়ে অযোগ্য প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

ঠিকাদারদের লিখিত অভিযোগ, তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন

বিভিন্ন সময়ে একাধিক ঠিকাদার নিয়াজ তানভীরের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও বৈষম্যের অভিযোগ এনে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে জানা গেছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, এসব অভিযোগের কোনোটিই কার্যকর তদন্তের মুখ দেখেনি। বরং বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিএনপি-জামায়াতের তকমা দিয়ে অনেক প্রকৌশলী ও ঠিকাদারকে হয়রানি ও হেনস্তা করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের সাবেক বিতর্কিত প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন নিয়াজ তানভীর—এমন অভিযোগও রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে একাধিক মন্ত্রী-এমপির সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল বলেও দাবি করা হয়েছে।

বদলি আদেশ উপেক্ষার অভিযোগ

ই/এম-৩ থেকে বদলি করার পর সরকারি আদেশ উপেক্ষা করে প্রায় এক মাস দুই জায়গায় দায়িত্ব পালন করার অভিযোগও রয়েছে নিয়াজ তানভীরের বিরুদ্ধে। সরকারি চাকরির বিধিমালার সঙ্গে এ ধরনের দায়িত্ব পালন কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কর্মকর্তারা।

অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গড়ে ওঠা কথিত সিন্ডিকেটের অনেক সদস্য ইতোমধ্যে বিভিন্ন শাস্তির আওতায় পড়লেও নিয়াজ তানভীর এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বেশ কয়েকটি কাজেও তাঁর বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।

মন্ত্রী-সচিবের নাম ভাঙিয়ে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ

সাবেক গণপূর্তমন্ত্রী, সচিব ও নজরুল ইসলামের আশীর্বাদে তিনি বিভিন্ন সময়ে প্রভাব বিস্তার করেছেন—এমন অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, মন্ত্রী, সচিব ও প্রধান প্রকৌশলীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার দোহাই দিয়ে তিনি বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রভাব বিস্তার করতেন। টেন্ডারে অনিয়ম, কারচুপি ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও অদৃশ্য শক্তির প্রভাবে তিনি এখনো ঘুষ ও দুর্নীতি চালিয়ে যাচ্ছেন—এমন অভিযোগও করেছেন সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ।

এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা অবশ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

চাকরির পর সম্পদের বিস্তার নিয়ে প্রশ্ন

ঘুষ, দুর্নীতি, অনিয়ম, টেন্ডার বাণিজ্য ও প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ রয়েছে নিয়াজ তানভীরের বিরুদ্ধে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায় বলে দাবি করা হচ্ছে, চাকরিজীবনের আগে তাঁর পরিবারের তেমন আর্থিক স্বচ্ছলতা ছিল না। কিন্তু গণপূর্ত অধিদপ্তরে যোগদানের পর অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে তিনি একাধিক প্লট, ফ্ল্যাট, বাড়ি ও গাড়ির মালিক হয়েছেন—এমন অভিযোগ রয়েছে।

বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুসারে, তিনি বিলাসী জীবনযাপন করেন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী একজন নির্বাহী প্রকৌশলী ৫ম গ্রেডের কর্মকর্তা হিসেবে যে বেতন-ভাতা পান, তার তুলনায় তাঁর জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেশি—এমন প্রশ্নও উঠেছে।

সেগুনবাগিচার ফ্ল্যাট নিয়ে রহস্য

একাধিক সূত্রের দাবি, রাজধানীর সেগুনবাগিচার ৫ নম্বর কনকর্ড টাওয়ারের ৬/এ ফ্ল্যাটটি কয়েক কোটি টাকা দিয়ে ক্রয় করা হয়েছে।

তবে ভবনের কেয়ারটেকারের সঙ্গে কথা বললে তিনি দাবি করেন, ‘স্যার’ সেখানে ভাড়া থাকেন এবং মাসে প্রায় ৭০ হাজার টাকা ভাড়া দেন।

ফ্ল্যাটটি তাঁর নিজের না হলেও একজন নির্বাহী প্রকৌশলী কীভাবে মাসে প্রায় ৭০ হাজার টাকা ভাড়া দিয়ে সেখানে বসবাস করেন—তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তবে ফ্ল্যাটটির মালিকানা ও অর্থের উৎস যাচাই ছাড়া এ বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

স্ত্রী-সন্তান ও স্বজনদের নামে সম্পদের অভিযোগ

পরিবারের সদস্যদের চলাচলের জন্য তাঁর স্ত্রী শাকিলা ইসলামের নামে একটি দামি গাড়ি কেনার অভিযোগ রয়েছে। খুলনা শহরে একাধিক বাড়ি ও বিপুল পরিমাণ জমি এবং রাজধানী ঢাকায় একাধিক ফ্ল্যাট ও প্লট রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

তাঁর ছেলে আহনাফ তানভীর ও মেয়ে আইজা তানভীরের নামে এবং বেনামে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, আইনের চোখ এড়ানোর উদ্দেশ্যে তাঁর অধিকাংশ সম্পদ পিতা তালুকদার আব্দুল খালেক, মাতা আখতারুন নেছা, স্ত্রী শাকিলা ইসলাম, ছেলে আহনাফ তানভীর, মেয়ে আইজা তানভীর, শ্বশুর-শাশুড়ি এবং অন্যান্য আত্মীয়স্বজনের নামে ও বেনামে কেনা হয়েছে।

তবে এসব সম্পদের মালিকানা, ক্রয়ের অর্থের উৎস এবং বেনামি সম্পদের অভিযোগের সত্যতা সংশ্লিষ্ট দলিল ও আর্থিক নথি যাচাইয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

‘ভোল পাল্টে’ নতুন প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ

বর্তমানে ভোল পাল্টে বিএনপিপন্থী দাবি করে তিনি গণপূর্ত অধিদপ্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন—এমন অভিযোগও রয়েছে।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রকৌশলী নিয়াজ তানভীর নিজের স্বার্থে অনৈতিক সুবিধা আদায়ের জন্য বিভিন্ন সময়ে প্রভাব খাটিয়েছেন। তাঁদের দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে যেহেতু এতগুলো অভিযোগ রয়েছে, তাই প্রতিটি অভিযোগ আলাদাভাবে যাচাই করে প্রকৃত সত্য বের করা জরুরি।

তদন্তের দাবি

কর্মকর্তাদের একটি অংশের দাবি, নিয়াজ তানভীরের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো দ্রুত তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন। বিশেষ করে তাঁর দায়িত্ব পালনকালে সম্পন্ন হওয়া প্রকল্পগুলোর টেন্ডার প্রক্রিয়া, কার্যাদেশ, বিল-ভাউচার, পরিমাপ বই, কাজের বাস্তব অগ্রগতি এবং অর্থ পরিশোধের নথি যাচাই করা দরকার।

একই সঙ্গে তাঁর নামে, পরিবারের সদস্যদের নামে এবং ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজনের নামে থাকা সম্পদের বৈধ উৎসও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

তাঁদের মতে, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সরকারি অর্থের সম্ভাব্য ক্ষতি নিরূপণ ও তা উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

বক্তব্য পাওয়া যায়নি

নিয়াজ তানভীর আলমের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানতে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এসব অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

প্রশ্ন এখন একাধিক

নিয়াজ তানভীরের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রকৃত সত্য কী? ৪০৬ কোটি টাকার ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার প্রকল্পের তদন্তে তাঁর ভূমিকা কী ছিল? ৬৮টি লিফট স্থাপনের টেন্ডারে অনিয়মের অভিযোগের ভিত্তি কতটা? আজিমপুরের পার্কিং শেড, সচিবালয়ের নিম্নমানের সামগ্রী, বঙ্গভবন ও ঢাকা মেডিকেলের প্রকল্পে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নথি কী বলছে?

আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—এত অভিযোগ ও বিতর্কের পরও তিনি কীভাবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বহাল রয়েছেন?

এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের মূল নথি, তদন্ত প্রতিবেদন, টেন্ডার ও বিল-ভাউচার যাচাই এবং তাঁর সম্পদের বৈধ উৎস সম্পর্কে নিরপেক্ষ অনুসন্ধান। অভিযোগ সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং অভিযোগ অসত্য হলে সংশ্লিষ্টদের দায় নির্ধারণ—দুই ক্ষেত্রেই স্বচ্ছ তদন্তই হতে পারে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের একমাত্র পথ।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।