বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

স্বামীকে কাঁধে নিয়ে নামার সময় হুড়োহুড়িতে পড়ে যাই, পরে শুনি তিনি পদদলিত হয়ে মারা গেছেন

মামুনুর রশীদ মামুন
সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ ১০:৩০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আগুনের ঘটনায় নিহতদের স্বজনদের ভিন্ন দাবি। নিহতের স্বজনদের আহাজারি। ছবি: সংগৃহীত

আগুন লাগার পর স্বামীকে কাঁধে করে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামছিলাম। হঠাৎ পেছন থেকে ধাক্কা দিয়ে আমাদের ফেলে দেওয়া হয়। আমি সিঁড়িতে পড়ে জ্ঞান হারাই। পরে জ্ঞান ফিরে শুনি, আমার স্বামী মারা গেছেন।

কথাগুলো বলছিলেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আগুন লাগার ঘটনায় নিহত ফুলবাড়িয়ার পল্লিচিকিৎসক শাহজাহান মোল্লার স্ত্রী হারিছা বেগম। মঙ্গলবার সকালে ফুলবাড়িয়া উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের বিষ্ণুরামপুর গ্রামের বাড়িতে স্বামীর মরদেহের পাশে বিলাপ করতে করতে তিনি এসব কথা বলেন।

হারিছা বেগম বলেন, সোমবার সন্ধ্যায় হাসপাতালে আগুন লাগার পর চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তখন তিনি ও তার বড় বোন জাহানারা মিলে শাহজাহানকে কাঁধে করে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামছিলেন। এ সময় পেছন থেকে ধাক্কা এলে তারা সিঁড়িতে পড়ে যান।

তিনি বলেন, ‘আমি নিজেও আঘাত পেয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। আমার বোনও আহত হয়। পরে জ্ঞান ফিরে শুনি, আমার স্বামী মারা গেছে। তখনও মানুষ আমাদের ওপর দিয়েই চলে যাচ্ছিল।

পরিবারের সদস্যদের দাবি, আগুনের পর সৃষ্ট আতঙ্ক ও হুড়োহুড়ির মধ্যে পদদলিত হয়েই শাহজাহান মোল্লার মৃত্যু হয়েছে। তবে এ দাবির সঙ্গে একমত নয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও বিভাগীয় কমিশনারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আগুনের ঘটনায় কেউ পদদলিত হয়ে মারা যাননি। যে দুজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, তাদের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এই বক্তব্য মানতে নারাজ নিহতদের স্বজনেরা। তাদের দাবি, আগুনের পর আতঙ্ক ও হুড়োহুড়ির কারণেই তাদের স্বজনদের মৃত্যু হয়েছে।

শাহজাহান মোল্লার মৃত্যুর বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের সমালোচনা করে তার স্ত্রী হারিছা বেগম বলেন, ‘হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, কেউ পদদলিত হয়ে মারা যায়নি। তারা তো ঘটনাটি দেখেনি। আমি সেখানে ছিলাম। আমি দেখেছি কী হয়েছে।

শাহজাহান মোল্লার পাশাপাশি একই ঘটনায় ফুলবাড়িয়ার সিএনজিচালক রমজান আলী এবং তারাকান্দার কুলসুম বেগমও মারা গেছেন। মরদেহ নিজ নিজ বাড়িতে নেওয়ার পর তাদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

সিএনজিচালক রমজান আলীর স্ত্রী খাদিজা আক্তারের দাবি, আগুনের ঘটনা না ঘটলে এবং আতঙ্ক তৈরি না হলে তার স্বামী হয়তো বেঁচে যেতেন।

তিনি বলেন, ‘আগুন লাগার পর তাড়াহুড়ো করে সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন তিনি। এরপর সেখানেই নিস্তেজ হয়ে পড়ে যান। কয়েকজনের সহযোগিতায় তাকে ওপরে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

খাদিজা আক্তার বলেন, ‘হাসপাতালে আগুন না লাগলে, আতঙ্কিত না হলে আমার স্বামী হয়তো বেঁচে যেতেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, বেশ কিছুদিন ধরে বুকে ব্যথা নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন রমজান আলী। সোমবার সন্ধ্যায় হাসপাতালে আগুন লাগার পর রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় দ্রুত সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামার চেষ্টা করেন রমজান। পরে আতঙ্কিত হয়ে সেখানেই তিনি নিস্তেজ হয়ে পড়েন।

এদিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আগুন লাগার ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তদন্তে আগুনের সূত্রপাত, রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার পরিস্থিতি এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো উঠে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।