বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

শিপইয়ার্ড সড়কে অনিয়ম-দীর্ঘসূত্রতা, কেডিএর ১৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ মন্ত্রণালয়ের

খুলনা জেলা প্রতিনিধি
সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ ১১:২২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ফাইল ছবি

খুলনার শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, আর্থিক অসঙ্গতি এবং দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ায় খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) ১৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আতাউর রহমান অ্যান্ড মাহাবুব ব্রাদার্সকে কালো তালিকাভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ অনুযায়ী, কেডিএর অধীনে থাকা ১১ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংস্থাটির চেয়ারম্যানকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে কেডিএতে প্রেষণে কর্মরত তিন উপসচিবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন কেডিএর সদস্য (উন্নয়ন) এস এম মাহমুদুর রহমান, সাবেক সচিব মো. বদিউজ্জামান এবং বর্তমান সদস্য (প্রশাসন) মো. ইকবাল হোসেন।

এ ছাড়া কেডিএর তৎকালীন প্রধান প্রকৌশলী এ টি এম ওয়াহিদ আজহার, তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কাজী সাবিরুল আলম, তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী (প্রকল্প) মজিবুর রহমান, প্রকল্প পরিচালক মো. আরমান হোসেন, উপ-প্রকল্প পরিচালক মুনতাসির মামুন, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শামীম জেহাদ, ক্যাশিয়ার মেহেদী হাসান, সহকারী হিসাবরক্ষক পলাশ কুমার ঘোষ, হিসাবরক্ষক (পূর্ত) শাহানা আক্তার, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা সাইদুল হক এবং অর্থ ও হিসাব রক্ষণ অফিসার এম এম হোসেন আলীর বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

১৩ বছরের প্রকল্প, ব্যয় বেড়ে ২৮০ কোটি

কেডিএ সূত্রে জানা গেছে, শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্পটি ২০১৩ সালের ৭ মে একনেকের অনুমোদন পায়। সে সময় প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল ৯৮ কোটি টাকা। কিন্তু দীর্ঘ ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও সড়কটির কাজ শেষ হয়নি। বরং একের পর এক সময় বাড়ার সঙ্গে বেড়েছে প্রকল্প ব্যয়ও। বর্তমানে প্রকল্পটির ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৮০ কোটি টাকা।

গত ৯ জুন একনেক সভায় প্রকল্পটির তৃতীয় দফা সংশোধন এবং ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব উত্থাপন করা হলে এ নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রকল্প বাস্তবায়নে গাফিলতি ও দীর্ঘসূত্রতার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার নির্দেশ দেন তিনি। এর পরই ওই দিন তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত ৩১ আগস্ট গৃহায়ণ সচিবের কাছে ৪০৪ পাতার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়।

সমীক্ষা ছাড়াই ডিপিপি, তহবিলে ১৩ কোটি ৫১ লাখ টাকা

তদন্ত প্রতিবেদনে প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা, আর্থিক অনিয়ম এবং পরিকল্পনাগত ঘাটতির নানা তথ্য উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, যথাযথ সমীক্ষা ছাড়াই প্রকল্পের ডিপিপি প্রণয়ন করা হয়েছিল।

এ ছাড়া প্রকল্পে বরাদ্দ থাকা ১৩ কোটি ৫১ লাখ টাকা দীর্ঘ দুই বছর কেডিএর নিজস্ব তহবিলে স্থানান্তর করে রাখা হয়েছিল। তদন্ত কমিটির মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড আর্থিক শৃঙ্খলার পরিপন্থি।

প্রতিবেদনে এসব অনিয়ম ও প্রকল্প বাস্তবায়নে গাফিলতির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায় চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

একই সঙ্গে প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আতাউর রহমান অ্যান্ড মাহাবুব ব্রাদার্সকে কালো তালিকাভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের চিঠি পেয়েছে কেডিএ

এ বিষয়ে কেডিএর চেয়ারম্যান শফিকুল আলম মনা বলেন, মন্ত্রণালয়ের চিঠি পেয়েছি। নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্নের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদনে অনিয়ম ও দীর্ঘসূত্রতার দায় নির্ধারণ এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।