বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কোনো বিভাজন সৃষ্টি করতে চাই না’— উদার গণতন্ত্রের বার্তা দিলেন মির্জা ফখরুল

আবদুর রহমান
জুন ৪, ২০২৬ ৮:২৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: ফাইল

বাংলাদেশে উদার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপি এমন একটি রাজনৈতিক দল, যা বিভাজনের নয়, বরং ঐক্য ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের রাজনীতি করে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)-এ আয়োজিত ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে জিয়াউর রহমানের স্বাধীন নির্জোট কূটনীতি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এই আলোচনা সভা ও সংবাদপত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, “বিএনপি উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির প্রতিনিধিত্ব করে। বিএনপি ইজ এ পার্টি অব লিবারেল ডেমোক্রেসি। আমরা উদার গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি এবং সেটিই প্রতিষ্ঠা করতে চাই। এখানে আমরা নতুন কোনো বিভাজন সৃষ্টি করতে চাই না।

‘মানুষ ভুল করেনি, বিএনপিকেই বেছে নিয়েছে’

নির্বাচনের আগের রাজনৈতিক আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিভিন্ন মহল ও বুদ্ধিজীবীদের একটি অংশ গণমাধ্যমে এমন ধারণা তৈরির চেষ্টা করেছিলেন যে জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়ে ক্ষমতায় আসতে পারে। কিন্তু দেশের জনগণ সেই পথে হাঁটেনি।

তিনি বলেন, মানুষ ভুল করেনি। তারা বিএনপিকেই বেছে নিয়েছে। কারণ বিএনপি একটি উদার গণতান্ত্রিক দল, যা দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিনিধিত্ব করে।

সবার আগে বাংলাদেশ’— জিয়ার দর্শনের ধারাবাহিকতা

বাংলাদেশের জন্মের মূল চেতনা প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করে মির্জা ফখরুল বলেন, “আমরা সেই বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যে আদর্শ ও স্বপ্ন নিয়ে দেশ স্বাধীন হয়েছিল।

তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জনপ্রিয় স্লোগান ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ আসলে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দেশপ্রেমিক দর্শনেরই ধারাবাহিক বহিঃপ্রকাশ। স্মরণ করিয়ে দেন জিয়ার সেই বিখ্যাত পছন্দের গান— ‘প্রথম বাংলাদেশ, আমার শেষ বাংলাদেশ’।

মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহতা কাছ থেকে দেখেছেন

নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, একজন সংগঠক হিসেবে তিনি মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং খুব কাছ থেকে যুদ্ধের বিভীষিকা প্রত্যক্ষ করেছেন।

তিনি বলেন, “পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কীভাবে গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দিয়েছে, নিরীহ মানুষ হত্যা করেছে এবং নারীদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে— আমি নিজ চোখে দেখেছি। তাই তাদের কখনো ক্ষমা করতে পারি না।

একইসঙ্গে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্য কোনো ঘটনার তুলনা করা যায় না।

‘অখ্যাত মেজর’ থেকে জাতীয় বীর

জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করতে গিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আওয়ামী লীগ একসময় তাকে ‘অখ্যাত মেজর’ বলে বিদ্রুপ করলেও ইতিহাস ভিন্ন বাস্তবতার সাক্ষ্য দেয়।

তার ভাষায়, “একাত্তরে দেশের মানুষ যুদ্ধের ডাকের অপেক্ষায় ছিল। যখন প্রত্যাশিত ঘোষণা আসেনি, তখন চট্টগ্রাম থেকে এই ‘অখ্যাত মেজর’ই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন এবং মুক্তিযুদ্ধের ডাক দেন।

‘বাংলাদেশিদের স্বকীয় পরিচয় গড়ে দিয়েছিলেন জিয়া’

মির্জা ফখরুলের মতে, জিয়াউর রহমানের অন্যতম বড় অবদান ছিল বাংলাদেশের মানুষের জন্য একটি স্বতন্ত্র জাতীয় পরিচয় প্রতিষ্ঠা করা।

তিনি বলেন, তিনি এই ভূখণ্ডের মানুষকে একটি স্বকীয়তা ও আত্মপরিচয় দিয়েছিলেন। তিনি বুঝিয়েছিলেন— আমরা আলাদা, আমাদের নিজস্ব পরিচয় রয়েছে।

একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিভিন্ন কর্মসূচি, বক্তব্য ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তিনি জিয়াউর রহমানের চিন্তা ও দর্শনের প্রতিফলন দেখতে পান।

অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ওরিয়েন্টাল অ্যান্ড আফ্রিকান স্টাডিজের অর্থনীতিবিদ ড. মুশতাক খান, বাংলাদেশ ডিফেন্স জার্নালের সম্পাদক আবু রুশদ এবং ব্রেইনের নির্বাহী পরিচালক ড. সফিকুর রহমান। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ (বিআইপিএসএস)-এর সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) এ এন এম মুনিরুজ্জামান।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।