প্রতীকী ছবি
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি-তে বিশেষ অভিযানে ছয়জন সন্দেহভাজন বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে দিল্লি পুলিশ। ডাকাতি ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর সরাই কালে খানের কাছে অভিযান চালানো হয়। এ সময় সন্দেহভাজনরা পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশের ওপর হামলা চালায় এবং গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়, যদিও তাদের আরও দুই সহযোগী পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—সুমন হালদার ওরফে পান্নু, সাইফুল ইসলাম, সোহেল শেখ, মোহাম্মদ নাসির, নূর ইসলাম ওরফে নাদিম খান এবং জাকির। পুলিশ জানিয়েছে, তারা সবাই বাংলাদেশের বাগেরহাট জেলা-এর বাসিন্দা এবং একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রের সদস্য।
তদন্তে উঠে এসেছে, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে ‘হিট-রান-হাইড’ কৌশলে অপরাধ চালিয়ে আসছিল। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বিত্তশালী পরিবার, বিশেষ করে বয়স্ক সদস্যদের বাসাকে লক্ষ্য করে তারা ডাকাতি চালাত। অপরাধ শেষে দ্রুত দেশ ছেড়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিত এবং কিছুদিন পর আবার ভারতে ফিরে নতুন টার্গেটে হামলা চালাত।
পুলিশ আরও জানায়, অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে চারটি দেশি পিস্তল, তাজা ও ব্যবহৃত কার্তুজ এবং বাড়ি ভাঙার সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং পলাতক সদস্যদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
প্রাথমিক তথ্যমতে, এই চক্রটি গোয়া, কর্ণাটক, উত্তর প্রদেশ ও ওড়িশাসহ বিভিন্ন রাজ্যে অন্তত ১৪টি ডাকাতি, লুট ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত। এর মধ্যে গোয়ার মাপুশায় ২০২৫ সালে সংঘটিত এক ঘটনায় একটি পরিবারকে জিম্মি করে প্রায় ৩৫ লাখ রুপি লুটের অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তরা অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে সংঘবদ্ধভাবে অপরাধ সংগঠিত করত এবং পরিকল্পিতভাবে পালিয়ে গিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে আসছিল। বর্তমানে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং আন্তঃরাজ্য অপরাধ নেটওয়ার্ক সম্পর্কে আরও তথ্য উদঘাটনের চেষ্টা করছে পুলিশ।
