সোমবার, ৯ই নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৪শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মহামায়া ইকোপার্কে কোটি টাকার রাজস্ব লুটের অভিযোগ, বন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগ

চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি
নভেম্বর ৯, ২০২৬ ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ইজারা শেষ হতেই রাজস্ব আদায়ে অনিয়মের মহোৎসব! ভুয়া টিকিট, অতিরিক্ত ফি ও বোট ভ্রমণের নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ। ফাইল ছবি

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কৃত্রিম লেক চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে অবস্থিত মহামায়া ইকোপার্ক। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এই পর্যটনকেন্দ্রকে ঘিরে এবার উঠেছে সরকারি রাজস্ব লুটপাটের গুরুতর অভিযোগ। অভিযোগের তির চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের অধীন মিরসরাই রেঞ্জের কয়েকজন কর্মকর্তার দিকে। ইজারার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পার্কটি সরাসরি বন বিভাগের নিয়ন্ত্রণে আসতেই রাজস্ব আদায় ও ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের একটি চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করেছেন পর্যটক ও স্থানীয়রা।

অভিযোগ উঠেছে, উপবন সংরক্ষক (ডিএফও) আবু নাসের মোহসিন হোসেন, ফরেস্ট রেঞ্জার মো. আল-আমিন এবং পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডেপুটি রেঞ্জার উজ্জ্বল হোসেনের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মদদে তিনজন ফরেস্ট গার্ড ও চারজন আউটসোর্সিং কর্মচারীকে নিয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। এই চক্রের বিরুদ্ধে সরকারি রাজস্বের বিপুল অর্থ আত্মসাৎ, অতিরিক্ত ফি আদায় এবং ভুয়া টিকিট বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ২২ জুলাই ২০২৬ তারিখে পার্কটির ইজারার মেয়াদ শেষ হয়। পরদিন ২৩ জুলাই থেকে এটি সরাসরি বন বিভাগের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে। তবে ইজারা-পরবর্তী সময়ে রাজস্ব আদায়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পরিবর্তে অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বন্ধ বোট চলাচল, তবুও গোপনে হাজার হাজার টাকা আদায়

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ইঞ্জিনচালিত বোট চলাচল নিয়ে। সরকারিভাবে ইঞ্জিনচালিত বোট চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হলেও পর্যটকদের কাছ থেকে গোপনে বোট ভ্রমণের নামে অর্থ আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, পুরো লেক ভ্রমণের জন্য জনপ্রতি বা নির্ধারিত ভ্রমণমূল্য হিসেবে ২ হাজার টাকা এবং ঝরনা পর্যন্ত যাওয়ার জন্য ১ হাজার টাকা আদায় করা হচ্ছে। এই অর্থের কতটুকু সরকারি কোষাগারে জমা হচ্ছে, আর কতটুকু সংশ্লিষ্টদের হাতে থাকছে—তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

ভুয়া টিকিটে রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ

পর্যটক ও স্থানীয়দের অভিযোগ, পার্কে প্রবেশ ও গাড়ি পার্কিংয়ের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত সরকারি ফির চেয়ে অতিরিক্ত দুই থেকে চার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। শুধু অতিরিক্ত অর্থ আদায়ই নয়, সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিতে আসল টিকিটের পাশাপাশি নিজেদের তৈরি ভুয়া টিকিট বিক্রির অভিযোগও উঠেছে। এসব টিকিট বিক্রির অর্থ সরকারি হিসাবে জমা না দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে আত্মসাৎ করা হচ্ছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

প্যাডেল বোটের আয় নিয়েও প্রশ্ন

পার্কে চলাচলকারী প্যাডেল বোট থেকে প্রাপ্ত আয়ের হিসাব নিয়েও দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। অভিযোগ রয়েছে, এই খাতের আয়ের সামান্য অংশ সরকারি কোষাগারে জমা দেখিয়ে অবশিষ্ট অর্থ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করা হচ্ছে। ফলে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক পর্যটকের কাছ থেকে আদায় করা অর্থের প্রকৃত হিসাব কত, সরকারি রাজস্ব হিসেবে কত টাকা জমা হচ্ছে এবং কত টাকা বাইরে থেকে যাচ্ছে—তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।

স্থানীয় সচেতন মহল ও দর্শনার্থীদের অভিযোগ, সরকারি সম্পদ ও পর্যটনকেন্দ্রের আয়-ব্যয়ের যথাযথ তদারকি না থাকায় একটি অসাধু চক্র অনিয়মের সুযোগ নিচ্ছে। সরকারি টিকিট বিক্রির হিসাব, প্রবেশ ফি, পার্কিং চার্জ, প্যাডেল বোটের আয় এবং ইঞ্জিনচালিত বোট ভ্রমণের নামে আদায় করা অর্থের পূর্ণাঙ্গ হিসাব নিরীক্ষা করা হলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

এ অবস্থায় উপবন সংরক্ষক আবু নাসের মোহসিন হোসেন, ফরেস্ট রেঞ্জার মো. আল-আমিন ও ডেপুটি রেঞ্জার উজ্জ্বল হোসেনসহ অভিযোগে উল্লিখিত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভূমিকা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে পার্কের রাজস্ব আদায়ের সব খাতের আয়-ব্যয়ের হিসাব যাচাই, টিকিট বিক্রির রেকর্ড পরীক্ষা এবং ইজারা-পরবর্তী সময়ে সরকারি অর্থ আদায় ও জমার তথ্য নিরপেক্ষভাবে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

তাদের দাবি, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। কারণ, মহামায়া ইকোপার্ক কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর ব্যক্তিগত আয়ের উৎস নয়; এটি জনগণের সম্পদ এবং রাষ্ট্রের রাজস্বের গুরুত্বপূর্ণ একটি খাত। বিস্তারিত থাকছে পরবর্তী প্রতিবেদনে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।