ফাইল ছবি
প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ কমাতে বিদ্যুতের বাড়তি দাম প্রত্যাহার করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার বিতরণ সংস্থা ও কোম্পানিগুলোর আবেদনের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এ সিদ্ধান্তের কথা জানায়।
এর আগে গত বুধবার ঘোষিত নতুন ট্যারিফ অনুযায়ী আবাসিক লাইফলাইন গ্রাহকদের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৪ টাকা ৬৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৫ টাকা ৩২ পয়সা করা হয়েছিল। শূন্য থেকে ৫০ ইউনিট এবং শূন্য থেকে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীরা এই শ্রেণির আওতাভুক্ত। এতে প্রতি ইউনিটে ৬৯ পয়সা বা প্রায় ১৫ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধি পেত।
বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে লাইফলাইন গ্রাহকের সংখ্যা ১ কোটি ৭৮ লাখ ৮২ হাজার ৩৮০। এর মধ্যে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) আওতাধীন সমিতিগুলোতেই রয়েছে ১ কোটি ৬১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৯১টি সংযোগ। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরে সরকার ভর্তুকি মূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে আসছে।
নতুন দামে শুধু বিদ্যুতের ইউনিট মূল্যই নয়, গ্রাহকদের ডিমান্ড চার্জ, মিটার ভাড়া ও মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) পরিশোধ করতে হতো। ফলে সর্বোচ্চ ৫০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী একজন লাইফলাইন গ্রাহকের মাসিক বিল গড়ে প্রায় ৩৭ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল।
তবে লাইফলাইন গ্রাহকদের জন্য সেই বাড়তি বোঝা আপাতত থাকছে না। বিইআরসির সর্বশেষ সিদ্ধান্তে তাদের জন্য বিদ্যুতের বাড়তি মূল্য প্রত্যাহার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, নতুন ট্যারিফ অনুযায়ী পাইকারি পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৭ টাকা থেকে ১ টাকা ৩৯ পয়সা বাড়িয়ে ৮ টাকা ৩৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে পাইকারি বিদ্যুতের দাম বেড়েছে ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ।
খুচরা পর্যায়েও গড় মূল্য প্রতি ইউনিট ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা করা হয়েছে। অর্থাৎ খুচরা বিদ্যুতের দাম বেড়েছে ১ টাকা ৫২ পয়সা বা ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ।
তবে আবাসিক লাইফলাইন গ্রাহকরা বাদে অন্য সব শ্রেণির বিদ্যুতের দাম গত বুধবার ঘোষিত ট্যারিফ অনুযায়ী কার্যকর থাকবে।
