গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আহসান হাবীবকে ঘিরে সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং পরবর্তীতে একটি পত্রিকায় প্রকাশিত তার প্রতিবাদ বিবৃতি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
গত ৪ জুলাই প্রকাশিত প্রতিবাদে তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এরই মধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, প্রশাসনিক প্রভাব, জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদের অভিযোগ এবং একটি হত্যা মামলায় নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়সহ একাধিক অভিযোগ উঠে এসেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো কোনো আদালতের চূড়ান্ত রায় বা স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
বিভিন্ন সূত্রে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আহসান হাবীবের বিরুদ্ধে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার, কমিশন বাণিজ্য, সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম এবং দরপত্র-সংক্রান্ত বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ নিয়ে অতীতে আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে জ্ঞাত আয়ের বাইরে সম্পদ অর্জনের অভিযোগও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
এছাড়া আদালত-সংশ্লিষ্ট নথিতে তার নাম একটি হত্যা মামলার আসামির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে মামলাটি বিচারাধীন এবং এ বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো আসেনি।
পর্যবেক্ষকদের মতে, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ প্রকাশিত হলে তার প্রতিবাদ জানানো একটি স্বীকৃত অধিকার। একই সঙ্গে অভিযোগগুলোর সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করাও আইনের শাসন ও সুশাসনের অপরিহার্য অংশ।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ অনুসন্ধানের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মহল। অভিযোগগুলো সত্য হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা এবং অসত্য হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সুনাম পুনঃপ্রতিষ্ঠা—উভয়ই বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া উচিত।
প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত মো. আহসান হাবীবের বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
এদিকে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হচ্ছে, দরপত্র ছাড়াই ২ কোটি ৬৬ লাখ টাকার কাজ সম্পন্ন। দুদকের বাউন্ডারি ওয়াল, বিচারপতি ভবনের নতুন গেট, কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের গেটের দেওয়াল নির্মাণ ও মাটি ভরাট কাজে ব্যাপক অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে।
আবার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বাউন্ডারি ওয়াল, বিচারপতি ভবনের দুটি নতুন গেট স্থাপন, বিদ্যমান চারটি গেট সংস্কার ও মজবুত করা এবং ভবনের সীমানাপ্রাচীর সংস্কারসহ ঊর্ধ্বমুখী নিরাপত্তা গ্রিল স্থাপনের কাজ দরপত্র আহ্বান ছাড়াই সম্পন্ন করার অভিযোগ চাউর হয়েছে। দুই কোটি ৬৬ লাখ টাকার উল্লিখিত কাজ শেষ করার পর দরপত্র আহ্বান করে ঠিকাদারকে বিল পরিশোধ করা হয়েছে। একই ঘটনা ঘটেছে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের গেটের দেওয়াল নির্মাণ ও মাটি ভরাট কাজের ক্ষেত্রে। বিষয়গুলো গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেছে। দরপত্রের আগে এ ধরনের বিধিবহির্ভূত কাজ থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দিয়েছে কমিটি। তার পরেও আহসান হাবীব কোন জবাবদিহির আওতায় আসেনি, উল্টো অপরাধ ধামাচাপা দিতে প্রতিবাদ নিউজ করেছেন।
এসব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত থাকছে পরবর্তী প্রতিবেদনে। চলবে………..
