রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ইরান থেকে ফিরে রাজধানীতে গড়ে তোলে ‘সিসা সাম্রাজ্য’, যমজ ভাইয়ের অনলাইন কারবারে ডিএনসির ইতিহাসের সবচেয়ে বড় উদ্ধার

স্টাফ রিপোর্টার
জুলাই ৫, ২০২৬ ১২:৫৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

যমজ ভাইসহ গ্রেপ্তার অনলাইন মাদক চক্রের তিন হোতা : সমতল মাতৃভূমি

রাজধানীর গুলশান ও ভাটারা এলাকায় ধারাবাহিক অভিযানে ৬৫ কেজি ৯০০ গ্রাম সিসা জব্দ করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। একই সঙ্গে সিসা সেবনে ব্যবহৃত ৪১টি হুক্কাসহ বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার পরিচালিত এ অভিযানে অনলাইনভিত্তিক সিসা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত যমজ দুই ভাইসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে সংস্থাটি।

ডিএনসি জানিয়েছে, দেশের ইতিহাসে একক অভিযানে এত বিপুল পরিমাণ সিসা উদ্ধারের ঘটনা এবারই প্রথম।

এ বিষয়ে শুক্রবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ডিএনসির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পরিচালক (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ বদরুদ্দীন জানান, আহমেদ শরীফি ও মেহদাদ শরীফি নামে দুই সহোদরের নেতৃত্বে একটি চক্র ফেসবুক পেজের মাধ্যমে অবৈধভাবে সিসা ও সেবনের সরঞ্জাম বিক্রি করে আসছিল।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিএনসি ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপপরিচালক মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে একটি দল গত বৃহস্পতিবার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অভিযান চালায়। সেখানে ফেসবুক পেজের নামে পাঠানো ১ কেজি সিসার একটি পার্সেল জব্দ করা হয়। পরে মালিবাগ থেকে একই পরিমাণ সিসার আরও একটি পার্সেল উদ্ধার করা হয়।

পার্সেল দুটির প্রেরকের ঠিকানা অনুসরণ করে সেদিনই গুলশানের কালাচাঁদপুরের একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্ত আহমেদ ও মেহদাদকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালিয়ে ৪৫ কেজি ৯০০ গ্রাম সিসা ও ২০টি হুক্কা উদ্ধার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আটক দুই ভাইয়ের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভাটারার নূরেরচালা এলাকার বাসিন্দা মাকসুদ আলমকে একই রাতে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বাসায় অভিযান চালিয়ে আরও ১৮ কেজি সিসা ও ২১টি হুক্কা জব্দ করা হয়।

ইরানের অভিজ্ঞতায় দেশে গড়ে ওঠে অনলাইন নেটওয়ার্ক

ডিএনসির প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আহমেদ ও মেহদাদ দীর্ঘদিন ইরানে অবস্থান করেছেন। তাদের মা-বাবা ইরানের নাগরিক। ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে এলেও এখানেই তাদের জন্ম। ইরানে যাতায়াতের সময় তারা সিসা ব্যবসার বাজারব্যবস্থা, সরবরাহ পদ্ধতি ও পরিচালনার কৌশল সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।

দেশে ফিরে সেই একই মডেল অনুসরণ করে তারা ফেসবুকভিত্তিক একটি অনলাইন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন। ওই পেজের মাধ্যমে গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ, পণ্যের ছবি প্রকাশ, অর্ডার গ্রহণ, মূল্য নির্ধারণ এবং সরবরাহের সমন্বয় করা হতো। অর্ডার নিশ্চিত হওয়ার পর কুরিয়ার সার্ভিসে দেশের বিভিন্ন স্থানে পার্সেল পাঠানো হতো এবং মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ব্যবহার করে মূল্য আদায় করা হতো।

ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণে বেরিয়ে আসছে বিস্তৃত নেটওয়ার্ক

ডিএনসি জানিয়েছে, অভিযানে জব্দ করা মোবাইল ফোন, ডিজিটাল ডিভাইস ও অনলাইন অ্যাকাউন্ট বিশ্লেষণ করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার বিপুলসংখ্যক ক্রেতার তথ্য, যোগাযোগের ইতিহাস, অর্ডারের বিবরণ এবং আর্থিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।

এসব তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে নিয়মিত ক্রেতা, পরিবেশক, সহযোগী এবং চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্তের কাজ চলছে।

অভিযানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এই চক্র মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে সিসার চালান সংগ্রহ করত। কখনও কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে, আবার কখনও যাত্রীদের লাগেজে কৌশলে দেশে আনা হতো এসব চালান। ব্যক্তিগত ক্রেতাদের পাশাপাশি রাজধানীর বিভিন্ন সিসা লাউঞ্জেও নিয়মিত সরবরাহ করা হতো বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
আইন-আদালত সর্বশেষ