ঢাকার আকাশে যেন সেদিন ভেসে বেড়াচ্ছিল উৎসবের রঙ, বন্ধুত্বের উষ্ণতা আর স্বপ্ন ছোঁয়ার এক মায়াবী আহ্বান। জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো ‘জেসিআই বাংলাদেশ কার্নিভাল ২০২৬’ যেখানে দিনভর প্রাণের উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন তরুণ নেতৃত্ব, উদ্যোক্তা আর নানা পেশার মানুষ।
শুক্রবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাদানি অ্যাভিনিউর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত Paper Tree BD-তে আয়োজিত এই কার্নিভাল ছিল যেন এক রঙিন মিলনমেলা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, যার উপস্থিতি আয়োজনকে দিয়েছে বিশেষ মর্যাদা।
দিনব্যাপী এই আয়োজনের মূল সুর ছিল—সংযোগ, সহযোগিতা আর সম্প্রীতির এক অনন্য বন্ধন গড়ে তোলা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-এর জাতীয় নেতৃবৃন্দ, লোকাল অর্গানাইজেশন প্রেসিডেন্ট, সদস্য এবং অতিথিরা এক ছাদের নিচে মিলিত হয়ে তৈরি করেন এক উজ্জ্বল নেটওয়ার্কিং প্ল্যাটফর্ম।
জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনাল-এর অধিভুক্ত এই সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরেই নেতৃত্ব বিকাশ, সামাজিক উন্নয়ন এবং উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে দেশের তরুণদের এগিয়ে নিতে কাজ করে যাচ্ছে। এই কার্নিভাল যেন সেই মিশনেরই এক প্রাণবন্ত প্রতিফলন।
কার্নিভালের প্রতিটি কোণায় ছিল আনন্দের ছোঁয়া—ইন্টারঅ্যাকটিভ বুথের কৌতূহল, ফুড স্টলের সুগন্ধ, গেমসের উত্তেজনা, বৈশাখী মেলার ঐতিহ্য, কনসার্টের সুর আর নেটওয়ার্কিংয়ের অফুরন্ত সুযোগ। ছোট-বড় সব বয়সের মানুষ মেতে ওঠেন এক অনাবিল উৎসবে, যেখানে প্রতিটি মুহূর্ত ছিল স্মরণীয়।
জেসিআই বাংলাদেশের ২০২৬ সালের সভাপতি আরেফিন রাফি আহমেদ বলেন, এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে সদস্য ও স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে ঐক্য, সৃজনশীলতা এবং অর্থবহ সংযোগ গড়ে তোলার অঙ্গীকার নতুন করে দৃঢ় হয়েছে।
সব মিলিয়ে, এটি শুধু একটি কার্নিভাল নয়—এ ছিল হৃদয়ের সঙ্গে হৃদয় মেলানোর এক অনন্য আয়োজন, যেখানে ভবিষ্যতের নেতৃত্ব খুঁজে পেয়েছে তার নিজের আলোকিত পথ।
