সোমবার, ২৭শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বজ্রপাতে ৭ জেলায় প্রাণ গেল ১৪ জনের তাপপ্রবাহের মধ্যে ঢাকাসহ সারাদেশে স্বস্তির বৃষ্টি

অনলাইন ডেস্ক
এপ্রিল ২৬, ২০২৬ ১১:০১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ফাইল ছবি

একটানা তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত জনজীবনের মধ্যে অবশেষে স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে বৃষ্টি। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রোববার বিকেল থেকে শুরু হওয়া কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রসহ বৃষ্টিতে কমেছে তাপমাত্রা, ফিরেছে কিছুটা স্বস্তি। তবে এই স্বস্তির মাঝেই দেশের অন্তত সাত জেলায় বজ্রপাতে ১৪ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

রোববার বিকেলের পর থেকেই রাজধানীর আকাশে জমতে থাকে কালো মেঘ। দিনভর ভ্যাপসা গরমের পর হঠাৎ করেই পরিবেশের পরিবর্তন চোখে পড়ে। কোথাও কোথাও হালকা বৃষ্টি হলেও তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার আগেই শুরু হয় দমকা হাওয়া, তারপর দ্রুতই তা তুমুল বর্ষণে রূপ নেয়। বজ্রপাত ও বিদ্যুৎ চমকানোর সঙ্গে কয়েক দফা ভারী বৃষ্টিতে নগরজীবন একদিকে যেমন খানিকটা স্বস্তি পেয়েছে, অন্যদিকে তৈরি হয়েছে তাৎক্ষণিক ভোগান্তি। অফিস শেষে বাড়ি ফেরা মানুষ হঠাৎ বৃষ্টিতে বিপাকে পড়েন। অনেককে সড়কের পাশের দোকান, শপিং কমপ্লেক্স কিংবা ভবনের নিচে আশ্রয় নিতে দেখা যায়। ফুটপাতের ব্যবসায়ী, হকার ও অস্থায়ী দোকানিরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন। তুমুল বৃষ্টিতে তাদের পসরা দ্রুত গুটিয়ে ফেলতে হয়। কোথাও কোথাও সড়কের পাশে পানি জমে অল্প সময়ের জন্য জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়, ফলে যান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে। তবে কয়েক দিনের প্রচণ্ড গরমের পর এই বৃষ্টি নগরবাসীর জন্য স্বস্তির নিঃশ্বাস এনে দেয়। বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষ—রিকশাচালক, নির্মাণশ্রমিক, দিনমজুর ও ভাসমান মানুষের কষ্ট কিছুটা লাঘব হয়।
ঝড়-বৃষ্টির এই দিনে সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি হয়ে দেখা দিয়েছে বজ্রপাত। দেশের অন্তত সাত জেলায় পৃথক ঘটনায় ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন, এবং গবাদিপশুরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে গাইবান্ধায়, যেখানে শিশুসহ পাঁচজন মারা গেছেন। ঠাকুরগাঁওয়ে দুইজন, সিরাজগঞ্জে দুইজন এবং জামালপুরে দুইজন বজ্রপাতে নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় অধিকাংশ ভুক্তভোগী ছিলেন মাঠে কাজ করা কৃষক বা গ্রামীণ শ্রমজীবী মানুষ। পঞ্চগড়ে এক চা-শ্রমিক, নাটোরে এক ধানকাটা শ্রমিক এবং বগুড়ায় এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে বজ্রপাতে। প্রত্যেক ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, বৃষ্টির সময় খোলা মাঠে বা উন্মুক্ত স্থানে থাকায় তারা ঝুঁকির মুখে পড়েন।

জামালপুরে বজ্রপাতে দুইজন নিহত হওয়ার পাশাপাশি চারজন আহত হয়েছেন এবং পাঁচটি গরুর মৃত্যু হয়েছে।
গাইবান্ধায় মারা যাওয়া পাঁচজন হলেন- সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের দক্ষিণ ধোপাডাঙ্গা গ্রামের ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেনের ছেলে ফুয়াদ চৌধুরী (১০), একই গ্রামের ছোটন মিয়ার ছেলে রাফি চৌধুরী (১৫) ও নবীর হোসেনের ছেলে মিজান মিয়া (২০), ফুলছড়ি উপজেলার ফুলছড়ি ইউনিয়নের দেলুয়াবাড়ি গ্রামের শুক্কুর আলীর ছেলে মানিক মিয়া (২৫) ও সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের হেলেঞ্চা গ্রামের নম্বার আলী (৬৫)। এর মধ্যে দক্ষিণ ধোপাডাঙ্গা গ্রামে বজ্রপাতের ঘটনায় শামীম মিয়া নামের আরও একজন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া একটি গরু মারা গেছে।

ঠাকুরগাঁওয়ের পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার দুপুরে দিকে পীরগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর ও কোষাডাঙ্গীপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মারা যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন- নিয়ামতপুর গ্রামের বাসিন্দা রশিদুল ইসলামের স্ত্রী লাবণী আক্তার (৩৫) ও কোষাডাঙ্গীপাড়া গ্রামের আকবর আলীর ছেলে ইলিয়াস আলী (৩৭)।

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ ও তাড়াশ উপজেলায় মৌসুমের প্রথম ঝড়-বৃষ্টির দিনে বজ্রপাতে দুজন মারা গেছেন। রোববার বিকেলে রায়গঞ্জের ধানগড়া ইউনিয়নের মল্লিকচান গ্রামে এবং তাড়াশ উপজেলার বেত্রাশীন গ্রামে এসব ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিকেলে আকাশে মেঘে দেখে রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া ইউনিয়নের মল্লিকচান গ্রামে মাঠে কাটা ধান স্তূপ করে রাখছিলেন একই পরিবারের কয়েকজন। এমন সময় বজ্রপাতে হোসেন আলী সেখ (২৫) গুরুতর আহত হন। স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। মৃত ব্যক্তি ওই গ্রামের আবদুল হালিম সেখের ছেলে।

এদিকে তাড়াশ উপজেলায় বজ্রপাতে মারা যাওয়া ব্যক্তির নাম আবদুল হামিদ (৫০)। তিনি মাধাইনগর ইউনিয়নের বেত্রাশীন গ্রামের মৃত গফুর আলীর ছেলে।

জামালপুরে পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া আরও চারজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পাঁচটি গরুর মৃত্যু হয়েছে। রোববার বিকেলে বজ্রপাতে সদর উপজেলার চর যথার্থপুর এলাকায় একজন ও মেলান্দহ উপজেলার হাজরাবাড়ী এলাকায় একজনের মৃত্যু হয়। মারা যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন- মেলান্দহ উপজেলার হাজরাবাড়ী এলাকার মোহাম্মদ রাজীবের স্ত্রী মর্জিনা বেগম (২২) ও সদর উপজেলার চর যথার্থপুর এলাকার হাবিব মণ্ডলের ছেলে হাসমত আলী (৪৫)।

পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় বজ্রপাতে মো. সোহরাওয়ার্দী (২২) নামের এক চা-শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন মো. মোস্তফা (৪৫) ও জাহেরুল ইসলাম (৪৩) নামের আরও দুই চা-শ্রমিক।

নাটোরের সিংড়ায় বজ্রপাতে সম্রাট হোসেন (২৬) নামে এক ধানকাটা শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার ডাহিয়া ইউনিয়নের ঠেংগা পাকুরিয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় বজ্রপাতে সুমন (৩৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার বিকেলে উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের মুচিখালী গ্রামে এ বজ্রপাতের ঘটে। মারা যাওয়া সুমন মুচিখালী গ্রামের মো. আবদুল করিমের ছেলে।

গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছিল। ঢাকাসহ বেশ কয়েকটি জেলায় তাপমাত্রা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় ভ্যাপসা গরমে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। দিনের পাশাপাশি রাতেও গরম কমেনি, ফলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। এই পরিস্থিতিতে হঠাৎ বৃষ্টির আগমন তাপমাত্রা কিছুটা নামিয়ে আনলেও আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, এটি পুরোপুরি তাপপ্রবাহের সমাপ্তি নয়, বরং সাময়িক বিরতি।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ঢাকায় কয়েক ঘণ্টায় ৩২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেসা জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টি হতে পারে।

রোববার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল রাঙামাটিতে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে দিনাজপুর ও শ্রীমঙ্গলে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।